ক্যাম্পাস খুললেও ক্যাফেটেরিয়া-ক্যান্টিন খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান গ্রন্থাগার ও বিভাগীয় সেমিনারগুলো খুলেছে। খোলার অপেক্ষায় আবাসিক হল এবং হোস্টেলগুলোও। বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও ক্যাম্পাসে থাকা ক্যান্টিন-ক্যাফেটেরিয়াগুলো খোলা হয়নি। এমনকি কবে খুলবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীরা।
গত বছরের মার্চে করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনসমূহও বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় পর আবারও চিরচেনা রূপে ফিরতে প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ রবিবার লাইব্রেরি ও বিভাগীয় সেমিনার কক্ষগুলো খোলার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলেছে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয় নানা প্রাঙ্গণ।
এ নিয়ে লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পড়তে আসা কলা অনুষদের ছাত্র জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, ‘সারা দিন পড়াশোনা করে বিকেলে একটু ক্যাফেটেরিয়ায় খাওয়া-দাওয়া করবো। বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করব, সে সুযোগটাও নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এটি করা দরকার। ’
ক্যাফেটেরিয়া সূত্র জানায়, ক্যাফেটেরিয়াটি সকাল সাতটায় চালু হয়ে বন্ধ হতো রাত নয়টায়। সকালে পাওয়া যেত ১০ টাকায় সিঙাড়া, চা, চপ ও সমুচা। দুপুরে ভাত-মাংস বা মাছ, মাঝেমধ্যে পোলাও। রাতেও তাই। বিকেলে মিলত চা-পুরি ও পেটিজ। দুপুর ও রাতের খাবারের দাম নেওয়া হতো ২০ টাকা করে। আর সকালের নাশতার দাম ১০ টাকা।
পড়ুন: ১৮ মাস পর খুলেছে ঢাবি গ্রন্থাগারের দ্বার
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল হক বলেন, সারাদিন আমাদের ক্যাম্পাসেই থাকা লাগে। বাইরের খাবার অতটা মানসম্মত না। দামও বেশি। ক্যাফেটেরিয়াগুলো বন্ধ থাকায় আমাদের ক্যাম্পাস থেকে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে খেতে হচ্ছে। ক্যাফেটেরিয়া খুললে খাবারের সমস্যাটা অনেকটা দূর হবে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়টির কলাভবন ক্যাফেটেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ আলী আকবর দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদেরকে ক্যাফেটেরিয়া খোলার ব্যাপারে এখনও কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হলে আমরা খোলার প্রস্তুতি নিবো।’
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটা হলেই খাবারের ব্যবস্থাপনা আছে, ক্যান্টিন আছে, ক্যাফেটেরিয়া আছে। সেগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হবে। স্বাভাবিকভাবে যখন ক্লাস শুরু হবে তখন এগুলো সব আস্তে আস্তে খুলে দেওয়া হবে।’