ঢাবি ছাত্রের বিরুদ্ধে নারী সহপাঠীকে হেনস্তার অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী সহপাঠী এক ছাত্রের বিরুদ্ধে মেসেঞ্জারে হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওই ছাত্রী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম শিপন মিয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের বাসিন্দা। জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত শনিবার (১০ জুলাই) চতুর্থ বর্ষ সপ্তম সেমিস্টারের ক্লাসে শিক্ষক জানান, ক্লাসের উপস্থিতি নেওয়ার জন্য ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে সবাই যেন মন্তব্যের ঘরে তাদের নাম, রোল লিখে দেয়। ১০ মিনিট পর কমেন্ট সেকশন অফ করে স্ক্রিনশট নিয়ে বিভাগের ওই কোর্স শিক্ষককে দেওয়ার দায়িত্ব দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে। সময়ের মধ্যে নাম রোল না লিখতে পেরে তার ওপর চটে যান শিপন মিয়া।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিপন আসলে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের মেয়েদের ফেসবুক গ্রুপে শিপন অনেকদিন ধরে মেম্বার ছিল। মেয়েদের ইন্টার্নাল গ্রুপে একজন ছেলে কেন থাকবে। সেখানে মেয়েদের অনেক ইন্টার্নাল বিষয় নিয়ে কথা হয়। এই গ্রুপে অ্যাড হতে পেরে শিপন অনেক সময় মেয়েদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে হাসি তামাশা করতো। একদিন আমি বিষয়টি নিয়ে গ্রুপের অ্যাডমিনদের সাথে কথা বলি। এবং চেক করে দেখি, শিপন তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে এই গ্রুপে অ্যাড হয়েছে। তারপর, তাকে ওই গ্রুপ থেকে ব্যান করা হয়। কিন্তু ওই সময়ের ক্ষোভ আমার ওপর থেকে যায়।’
অভিযোগকারী নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘ওইদিন চতুর্থ বর্ষের (সপ্তম সেমিস্টার) ৪০১ নম্বর কোর্সের শেষ ক্লাস ছিল। ক্লাসে ম্যাম বলে দিয়েছিলেন, ক্লাসের উপস্থিতির জন্য ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেওয়া হবে এবং ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে কমেন্ট সেকশনে নাম, রোল লিখে দিতে হবে। তারপর কমেন্ট সেকশন অফ করে রোলগুলো সংগ্রহ করে বিভাগের ম্যামকে দিতে হবে। ওইদিন আমি ম্যামের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে গ্রুপে পোস্ট দেই এবং ১০ মিনিটের বদলে আমি ২১ মিনিট কমেন্ট সেকশন অন রাখি। তারপরও শিপন কমেন্ট করতে পারেনি। শিপন কমেন্ট সেকশনে রোল না দিতে পেরে সে ওই সময় আমার সাথে বিভাগের মেসেঞ্জার গ্রুপে খুবই নোংরা কথা বলে। আমি বিষয়টি নিতে পারিনি। তাই আমি বিভাগকে জানিয়েছি।’
আরও পড়ুন: সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৯ অক্টোবর
এ বিষয়ে শিপন মিয়া বলেন, ‘‘ওইদিন আমি ক্লাস শেষে ফেসবুক গ্রুপে কমেন্ট সেকশনে রোল দেওয়ার জন্য যাই। কিন্তু ওই গ্রুপে আমি এ সংক্রান্ত কোনো পোস্ট খুঁজে পাইনি। কিছুক্ষণ পর আমি আবার গ্রুপে প্রবেশ করি কিন্তু গিয়ে দেখি কমেন্ট সেকশন অফ করা। তখন এই বিষয়টি আমি আমাদের মেসেঞ্জার গ্রুপে বলি। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে আমার আর ওর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ও আমার ফ্যামিলি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তখন আমি জবাবে ওর পরিবারকে ‘থার্ড ক্লাস ফ্যামিলি’ বলেছি। তারপর এক ক্লাসমেটের মাধ্যমে বিষয়টি মধ্যস্থতা হয়। কিন্তু আজ মঙ্গলবার বিকেলের দিকে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার ফোন পাই। ছাত্র উপদেষ্টা আমাকে তাঁর সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেন। পরে, আমি ওকে ফোন দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি। তার কাছে মাফ চাই। তখন সে আমাকে মাফ করে দিয়েছে জানায়। তখন, আমি তাকে ছাত্র উপদেষ্টাকে ফোন দিতে বলি। ও বলল ফোন করবে, কিন্তু ফোন দেয়নি।’’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অকথ্য ভাষায় মেসেজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমি ব্যবহার করতে পারি না। আমি ভুল করেছি।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক বান্ধবী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, শিপন মিয়া বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগীর উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে যেন শিপন মিয়ার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ দ্রুত তুলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১ অক্টোবর
জানতে চাইলে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই শিক্ষার্থী দুজন ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগের চেয়ারম্যান এবং একজন সহকারী প্রক্টরকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। যেহেতু সে লিখিত দিয়েছে, এ নিয়ে একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হবে।’
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এ ধরণের একটা অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। সহকারী প্রক্টরের মাধ্যমে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। যদি প্রক্টরিয়াল বডির কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয় আমরা সেটি করবো। প্রয়োজন হলে আলাদা কমিটি গঠন করে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা নিবো।’
বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসাইন ভুঁইয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।