বাড়ি ফিরতে বাস চায় ঢাবি শিক্ষার্থীরা
সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউনে ঢাকায় পরীক্ষা দিতে এসে আটকে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অনেক শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় অবস্থানরত অনেক শিক্ষার্থী পড়েছেন নানা সমস্যায়।
যার ফলে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঢাবির নিজস্ব বাসে আঞ্চলিক কিংবা বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেয়ার দাবি জানিয়েছে এই শিক্ষার্থীরা।
তবে এ বিষয়ে অসম্মতি জানিয়েছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, এখন লকডাউন চলছে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচলকে আমরা উৎসাহিত করি না। যে যেখানে রয়েছে সেখানে থাকাই উত্তম। আমরা লকডাউনের কথা বলছি, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কথা বলছি।
ঈদে বাড়ি যেতে ইচ্ছুক এমন একজন শিক্ষার্থী লকডাউনের কারণে ঢাকায় আটকে রয়েছে সেটা জানতে ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি গ্রুপে ভোটের আয়োজন করলে সেখানে প্রায় ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী ভোট দেন। যারা ঈদে ঢাকা থেকে দেশের দূরদূরান্তের জেলা বা উপজেলায় তাদের গ্রামের বাড়ি যেতে চান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লকডাউন শুরুর আগে পরীক্ষার রুটিন বা নোটিশ দেয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন চতুর্থ বর্ষের ৭ম সেমিস্টারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া রুটিন দেয়া হয়েছিল উর্দু বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রথম সেমিস্টার, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষ, লোক প্রশাসন ও দর্শন বিভাগের চতুর্থবর্ষের, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সেরসহ আরো বেশ কিছু বিভাগের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা ও পরীক্ষাও শুরু হয়েছিল।
পরীক্ষা দিতে এসে আটকে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। করোনা মহামারিতে প্রায় দেড় একবছরেও বেশি সময় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীদের নতুন শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া, পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ, ফি জমাদান, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ইত্যাদি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়। কিন্তু যানবাহন বন্ধ থাকার কারণে ঢাকা থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হলাম। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটি জানিয়ে দেয়া হবে।