শিক্ষার্থীদের টিকার চাহিদার শীর্ষে রাবি, দ্বিতীয় ঢাবি
দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করোনার টিকার জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ১৫২ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর তালিকা পাঠানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্য থেকে এ টিকার জন্য সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর তালিকা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। আর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
জানা যায়, বর্তমানে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মোট ২২০টি আবাসিক হল রয়েছে। এগুলোতে আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গত ৩১ মে পর্যন্ত মোট এক লাখের বেশি আবাসিক শিক্ষার্থীর তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসে দেওয়া হয়েছে। করোনার টিকার নিবন্ধনসংক্রান্ত কাজসহ স্বাস্থ্যের তথ্যসংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত এমআইএস।
ইউজিসি সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি তালিকা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ২৫৪ শিক্ষার্থীর তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ হাজার ১৩০, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার ১ জন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ হাজার ৬৩০ জন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ১ হাজার ৯৮৭ জন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ হাজার ৫০০ জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার ৬৬৯ জন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৫৫৩ জন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৯০ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৮৪৫ জন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ২১৪ জন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ হাজার ৬৫৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বাকিরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের।
ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষার্থীকেই করোনার টিকার আওতায় আনা। তবে আবাসিক হলগুলোতে যেহেতু শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বেশি করে থাকেন, সে জন্য প্রথমে সেসব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনতে চায় তারা। কারণ হিসেবে তারা বলছে, টিকা ছাড়া আবাসিক হলগুলো খোলা হলে করোনার ঝুঁকি বেশি।
করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা থাকলেও আসন্ন ঈদুল আজহার আগে খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলো, আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার পর শ্রেণীকক্ষে ক্লাস শুরু করা হবে।