রাবি স্কুলে নিয়মবহির্ভূত শিক্ষার্থী ভর্তির চেষ্টা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্কুল এন্ড কলেজের বিভিন্ন শ্রেণীতে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করেই শিক্ষার্থী ভর্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি স্কুলটিতে অস্থায়ী কর্মচারীদের ১৩ জন সন্তান এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে বহিরাগত ১৪ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারীতে বর্তমানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমনতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন মিশ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল ইসলামকে ২৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। তবে এই চিঠির মাধ্যমে সুপারিশ করা ২৬ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান জটিলতা।
একদিকে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম যেমন চালানো সম্ভব নয় তেমনি স্কুলটিতে ভর্তির জন্য ফাঁকা নেই কোনো আসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের একটি শ্রেণীতে সর্বোচ্চ ১২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার নিয়ম রয়েছে। বর্তমানে সেই আসনগুলো পূর্ণ থাকায় ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি করানোর জন্য স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষকে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানতে চাইনি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপক অধ্যক্ষ শফিউল ইসলাম জানান, কয়েকজন অভিভাবকের কাছ থেকে আমি তাদের সন্তানকে ভর্তি করার বিষয়ে জানতে পেরেছি। এই মুহূর্তে লকডাউন এর জন্য তো এটা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া আমিতো একাই তাদেরকে ভর্তি করাতে পারবো না। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে গেলে ভর্তি কমিটির মিটিং করতে হবে। করোনা এবং লকডাউন এর কারণে সেটা অনেক কঠিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ১২ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করার জন্য স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক। চলতি সপ্তাহে আবারো নতুন করে আরো ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানোর জন্য তিনি অধ্যক্ষকে চিঠি দেন। এভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর কোন নিয়ম না থাকলেও শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন মিশ্র জানান, আমাদের স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়া দুইটি ক্যাটাগরিতে ভাগ। একটি অভ্যন্তরীণ আরেকটি বহিরাগত। আমাদের ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মূল ভর্তির পর যারা অভ্যন্তরীণ থাকেন তাদেরকেও ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা অভ্যন্তরীণদেরকে ভর্তি করানোর বিষয়টি বলেছি। এবং এবিষয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ্য সিদ্ধান্ত নিবেন।
গত এক সপ্তাহ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারোল কর্মচারিদের মধ্যে যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই শুধু তাদের সন্তানদের ভর্তির জন্য ১২-১৪ জনের একটা তালিকাও দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়কে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদেরকেও ভর্তি করানো হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার সাক্ষরিত নোটিশে বলা আছে, লকডাউনকালীন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রয়েছে। তাই এ সংক্রান্ত দপ্তর বা অফিসের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সংক্ষিপ্ত জনবল নিয়ে তারা তাদের অফিসিয়াল কাজ চালিয়ে যাবে।