ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় কবরকে মাজার বানিয়ে ব্যবসা!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের দোয়েল চত্বর মোড় থেকে টিএসসির দিকে আসতে বাম পাশে চোখে পড়বে তিন নেতার মাজার ও ঢাকা গেইট। ঐতিহাসিক স্থাপনা দুটির পাশে সুশোভিত হয়ে উঠছে একটি মাজার। মাজারে যিনি শায়িত আছেন তিনি মা মরিয়ম বিবি আজমেরি (সাইনবোর্ড অনুসারে)। খাদেম আর ভক্তরা তাকে ‘জটালীমা’ নামে ডাকেন। কিন্তু ক্যাম্পাস সংলগ্ন ওই এলাকায় গড়ে উঠা মাজারের ব্যাপারে কিছুই জানেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সাধারণ মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ধর্মের নামে ব্যবসা করার প্রবণতা অনেক পুরনো রীতি। সেই অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় ধর্মব্যবসায় লিপ্ত হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশও ব্যাহত হতে পারে। তাই মাজারটির আস্তানা সরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, বর্তমানে মাজারটি মোতাওয়াল্লী হিসেবে রয়েছেনে মোছা. মমতাজ বেগম এবং তার পরিবারের সদস্যরা। জটালীমা’র উত্তরসূরীরা বর্তমানে ঢাকার অদূরে টঙ্গীতে রয়েছেন বলে জানান মাজারের এক খাদেম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ খাদেম জানান, জটালীমা ব্যক্তিগত জীবনে অনেক বড় কামেল ও আল্লাহর বান্দী ছিলেন।
তাকে কেনো জটালীমা বলা হয়, জানতে চাইলে ঐ খাদেম বলেন, উনার (জটালীমা) মাথার চুলে অনেক লম্বা ও জট ছিলো। তিনি এই জায়গায় বসে ব্রিটিশ আমলের সময় ধ্যান করতেন এবং এখানেই তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তাকে কবর দেয়া হয়। সেই কবর থেকে তা ক্রমান্বয়ে মাজারে পরিণত হয়।
প্রতিবছর একবার করে ওরশ হয় এবং সেখানে বিভিন্ন স্তরের মানুষ আসেন বলেও জানান ঐ খাদেম। চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ বছরের ওরশ হয়েছে বলে তিনি জানান।
সরেজমিনে মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীতে মেট্রোরেলের কাজের কারণে দোয়েল চত্বরের আশেপাশের দোকানগুলো উঠিয়ে দেওয়া হলেও সেই মাজার এখনো অক্ষত রয়েছে। তবে সেটাকে জটালীমার কারামাত (অলৌকিকত্ব) হিসেবে দেখছেন ঐ খাদেম। এছাড়া মাজারে জটালীমার পরিচয় সংক্রান্ত একটি নেমপ্লেট ও একটি দানবাক্স রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আফসারুল ইসলাম বলেন, অনেকদিন ধরে ক্যাম্পাস এলাকায় পাগল, ভিক্ষুক এবং ভাসমান মানুষের অভয়ারণ্য। সে জায়গায় যদি আরেকটি মাজার এভাবে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে তাহলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, বিষয়টি আগে আমাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয়নি। বর্তমানে বিষয় সম্পর্কে এখন যেহেতু অবহিত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।