৩০ মার্চ ২০২১, ১৮:৩০

বাংলা চ্যানেল ডাবল ক্রসের বিরল রেকর্ড ঢাবি ছাত্র রাসেলের

ঢাবি সাঁতার দলের অধিনায়ক মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল  © ফাইল ফটো

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে বঙ্গোপসাগরের বাংলা চ্যানেল একাধারে দুইবার পাড়ি (ডাবল ক্রস) দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সাঁতার দলের অধিনায়ক, অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ডাকসু নেতা মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল।

গতকাল সোমবার সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে পাঁচজন ডবল ক্রসের লক্ষ্যে সাঁতার শুরু করেন। টেকনাফে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী ১০ মিনিট বিরতি নিয়ে আবার সাঁতার শুরু করে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে সেন্ট মার্টিন তীরে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে বিরল রেকর্ডের অধিকারী হন রাসেল।

ডাকসুর সাবেক সদস্য ও ঢাবির মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলা চ্যানেল ডাবল ক্রস দিতে পেরে সত্যিই অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে। অনেক পরিশ্রম ও দীর্ঘ সাধনার পর আমি এটি করতে পেরেছি। দেশের জন্য কিছু করতে পারাটা আসলেই অত্যন্ত আনন্দদায়ক।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ সাঁতারে অংশ নেন ৯ জন সাঁতারু। এদের মধ্যে পাঁচজন ডাবল ক্রস ও চারজন সিঙ্গেল ক্রস সাঁতারু ছিলেন। এ সাঁতারের আয়োজন করে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার ও এক্সট্রিম বাংলা’।

ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী সাঁতারু লিপটন সরকার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এবারের কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহ্পরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত ১৬.১ কিলোমিটার সমুদ্রপথ দুইবার (ডাবল ক্রস) অর্থাৎ ৩২.২ কিলোমিটার পাড়ি দিতে নামা পাঁচজনের মধ্যে শুধুমাত্র মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল তা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যরা হলেন সাঁতারু মো. মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ শামসুজ্জামান আরাফাত, মো. এরশাদ খান মুর্শেদ ও মো. রাব্বি রহমান। তারা সোমবার ভোর সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে সেন্ট মার্টিন থেকে সাঁতার শুরু করেন। বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাসেলের ডাবল ক্রস সম্পন্ন হয়।

লিপটন সরকার আরও জানান, একইদিন সকাল ১০টার দিকে শাহ্পরীর দ্বীপ থেকে (সিঙ্গেল ক্রস) সাঁতার শুরু করে সেন্টমার্টিন যান চারজন সাঁতারু। তারা হলেন পবিত্র কুমার দাশ, অর্ণব বিশ্বাস, দিপঙ্কর বিশ্বাস ও লিপটন সরকার। এদের মধ্যে শুধু দিপঙ্কর বিশ্বাস শেষ করতে পারেননি।

এককভাবে রেকর্ডসংখ্যক সর্বোচ্চ ১৭ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া লিপটন সরকার আরও জানান, সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পৌঁছানোর পর সেখান থেকে আবার সেন্টমার্টিনে পৌঁছাতে পারলে তাকে বলা হয় ডাবল ক্রস। ২০০৬ সালে বাংলা চ্যানেল আবিষ্কারের পর এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি ডাবল ক্রস সম্পন্ন করলেন। এর আগে পৃথকভাবে দুই ভারতীয় সাঁতারু এখানে ডাবল ক্রস করেছেন।

এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের একজন সাঁতারু এবং লিপটন সরকার নিজে ডাবল ক্রস করতে নেমে সিঙ্গেল ক্রস শেষ করার পর দ্বিতীয় দফায় মাঝপথে গিয়ে ক্ষান্ত দেন।