২০ মার্চ ২০২১, ১৫:৩০

মামুনুলরা ইসলামের অপব্যবহারের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে লিপ্ত: ঢাবি শিক্ষক সমিতি

  © ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি। একইসঙ্গে এই ঘৃণ্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ও তাদের মদদদাতাদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে।

শনিবার (২০ মার্চ) সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় যে, হেফাজতে ইসলামের উগ্রবাদী নেতা মামুনুল হকের অনুসারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের সাথে জড়িত। ১৫ মার্চ  সুনামগঞ্জের দিরাই এলাকায় অনুষ্ঠিত হেফাজতের সভায় মামুনুলের উস্কানিমূলক বক্তব্য তার নেতাকর্মীদের আক্রমণে উদ্বুদ্ধ করেছে। শাল্লার নােয়াগাঁও-এর জুমন দাস নামের এক যুবক ঘটনার দিন রাতে মামুনুল হকের বক্তব্যের প্রতিবাদে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয় বলে গুজব ছড়িয়ে যায়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে সে রাতেই মামুনুল হকের অনুসারীরা জুমন দাস ও তার পরিবারের উপর হামলার মহড়া দেয়। উল্লেখ্য, জুমন দাসের ফেসবুক হ্যাক করে পরিকল্পিতভাবে পােস্ট দিয়ে ধর্মীয় উস্কানির অপপ্রচার করা হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানাে হয়েছে। এখানে আরাে স্মরণযােগ্য, রামু ও নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার আগেও এ ধরনের ধর্মীয় উস্কানির অভিযােগ আনা হয়েছিল।”

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, জাতি যখন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছে, সেই সময়ে বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট করে মামুনুলের অনুসারীরা বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে একটি সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যা রাষ্ট্রবিরাধেী অপরাধ।

তারা আরাও বলেন, সম্প্রতি মামুনুলদের উস্কানিতে জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাংচুর করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এদের কেউ কেউ জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। হেফাজত নেতা ফয়জুল্লাহ একটি গণমাধ্যমের আলোচনায় জাতীয় সংগীত নতুনভাবে রচনার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধান পরিপন্থী। তারা শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যবহারের মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে লিপ্ত।

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ হামলার শিকার পরিবারসমূহের ক্ষতিপূরণসহ নিরাপত্তা এবং ধর্ম, মানবতাবিরােধী ও রাষ্ট্রদ্রোহী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে।”