ক্যাম্পাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব আমরা নেব না: জাবি প্রক্টর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। তবে বাইরে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব আমরা নেব না।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় গেরুয়া বাজারে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় স্থানীয়রা। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই এলাকাবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় এবং এরপর দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তবে স্থানীয়রা দাবি করেন, জাবি ছাত্রলীগের অভিষেক (সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মন্ডল), পিয়াস, এলেক্স (জাবি ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য) ও রনির গ্রুপের নেতৃত্বাধীন প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন বাতিঘরের সদস্য নজরুলকে আটক করে টর্চার করেন এবং মুক্তিপণের জন্য দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু স্থানীয়রা গিয়ে নজরুলকে উদ্ধার করেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমাকে অভিষেকের পোলাপানেরা অপহরণ করে রাতের মধ্যে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং নির্যাতন চালায়। টাকা দিতে না পারলে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় তারা। পরে স্থানীয় ভাই-ব্রাদারেরা আমাকে উদ্ধার করতে আসলে তাদের (শিক্ষার্থী) সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তার মাহবুব বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ৩০ এর বেশি শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের অধিকাংশই মাথা, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পেয়েছেন। তাদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় গেইটের বাইরে প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মীদের কিছু করার নেই। আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঠানোর জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি।