১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৫৮

ঢাবি ছাত্রকে হামলার পর এবার ভাইয়ের গাড়িতে আগুন

  © সংগৃহীত

বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে নিজ বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতার হামলার শিকার হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরিয়ত উল্যাহ। গত ৮ তারিখ এ হামলা করেন তারা। পরে ১১ তারিখ আবার মামলা দেন ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলা দায়ের করে আসামি শহীদ উল্লার স্ত্রী কোহিনুর আক্তার।

হামলার এক সপ্তাহ না পেরোতে ওই শিক্ষার্থী পারিবারিক একটি পিক-আপ ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ আগুন লাগায়। এতে গাড়িটি পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

শরিয়ত উল্যাহর ভাই মো. উল্যাহ জানায়, দিনের বেলা কাজ শেষে সোনাপুর বাজারের পাশে বাড়ির সামনে গাড়িটি রেখে ঘুমাতে যায়। রাত সাড়ে তিনটার দিকে আগুনে পোড়ার শব্দ শুনে ঘরের বাহিরে আসলে দেখতে পায় গাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের এত শ্রমে কেনা গাড়িটি পুড়ে একেবারে শেষ হয়ে গেছে।

নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক পরিশ্রম করে গাড়িটি নিজেদের করে নিয়েছিলাম। এখন আমার আর কোনো আশা নেই। সব আশা এক রাতেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

শরিয়ত উল্যাহ জানান, গতকাল রাতে দুর্বৃত্তরা আমাদের পিক-আপ ভ্যানটিতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এতে পিক-আপ ভ্যানটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে, ফায়ার সার্ভিসও এসেছিলো। কিন্তু ততক্ষণে গাড়িটি পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে গেছে।

বিষয়ে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটা আমি শুনেছি। প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রবিবারের ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়িতে আসেন শরিয়ত। সেদিন রাতে তার পরিবারের নিকট চাঁদা দাবি করে স্থানীয় আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব নবী ফরহাদ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন দুপুর ২টায় বাড়ি থেকে বাজারে ডেকে নিয়ে আসেন ফরহাদ। বাজারে কোনও ধরণের কথা ছাড়াই মারধর শুরু করে তাকে।

এসময় ফরহাদের নেতৃত্বে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা শরিয়তকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় এজহার দায়েরের আটদিন পার হলেও গ্রেফতার হয়নি মামলার প্রধান আসামি আইয়ুব নবী ফরহাদ।

শরিয়ত উল্যাহ দৈনিক ইত্তেফাকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিনিধি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যও।