০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:১৮

ওয়েব প্রোফাইল আপডেটে জাবি শিক্ষকদের অনীহা

  © ফাইল ফটো

বিশ্বমানের নাগরিকদের সম্মিলনের অন্যতম স্থান বিদ্যাপীঠ। সেই বিশ্ব-নাগরিকদের তীর্থভূমি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে চর্চা হয় উচ্চমর্গীয় পরিশীলিত জ্ঞান ও মননের। পরিতাপের বিষয়, বাংলাদশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠসমূহ বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত হলেও বিশ্বায়নের সাথে তাল মেলাতে অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা পূর্বক চূড়ান্ত ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে। যার প্রমাণও মিলছে হাতে-নাতে, বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের তলানিতে স্থান পাচ্ছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে প্রযুক্তির ছোয়া এতোটাই যে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা সম্পর্কিত সকল ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয় অনলাইন মাধ্যমে। ভিনদেশী কোন শিক্ষার্থী কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা নিতে সর্বপ্রথম ওয়েবসাইট ভিজিট করেন। ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রোফাইল থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের লাইফস্টাইল পরিদর্শন করেন।

এক্ষেত্রে প্রযুক্তি অক্ষমতা ও সদিচ্ছার অভাব একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘আন্ডাররেটেড’ হিসেবে উপস্থাপন করে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন শিক্ষা গবেষকরা। এতে র‌্যাংকিংয়েও আসে অবনমিত মান। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগরের ওয়েবসাইটটি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির তার ওয়েবসাইটের মান উন্নয়ন করলেও গবেষণা তথ্য সন্নিবেশনে অধিকাংশ শিক্ষকের কোন আগ্রহ নেই। ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের গবেষণাকার্যের কোন তথ্যই আপডেট করেননি। এর মধ্যে বাদ যায়নি উপাচার্য, উপ-উপচার্যদ্বয়, ট্রেজারার, অনুষদগুলোর ডিন ও প্রক্টরও। আচার্যের সম্পূর্ণ তথ্যও দেয়া নেই সেখানে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট গিয়ে দেখা যায়, কলা ও মানবিকী অনুষদ, গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন, বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং এ্যান্ড জিআইএস এর পরিচালদের কোন গবেষণাকার্যের তথ্যও সন্নিবেশ করা হয়নি।

ওয়েবসাইটের হোম পেজ

 

 

 

 

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার জন্য সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ছয়টি বিভাগের সন্নিবেশিত তথ্য পর্যালোচনা করে পাওয়া যায়, এই অনুষদে অর্থনীতি, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ভূগোল ও পরিবেশ, সরকার ও রাজনীতি, লোক প্রশাসন ও নৃবিজ্ঞান বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগে মোট ১৩৩ জন শিক্ষক আছেন।

এর মধ্যে ৫০ জন শিক্ষকের গবেষণাকর্মের তথ্য দেয়া রয়েছে। বাকি ৮৩ জন শিক্ষকের যোগাযোগের ঠিকানা ছাড়া কোন তথ্য আপডেট করা নেই। কয়েকজন শিক্ষকের দেয়া তথ্যের মধ্যে ভুল রয়েছে। শিক্ষকদের পদন্নতি হলেও তাঁর তথ্য আপডেট করা হয়নি। এরকম চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল অনুষদ ও বিভাগে।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ছয়টি বিভাগের তথ্য

 

 

 

 

 

 

 

 

জাবির আইসিটি সেলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন জানান, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অনেক উন্নত হয়েছে। শিক্ষকদের আইডি ও পাসওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা নিজেই তাঁর তথ্য হালনাগাদ করতে পারবে। কিন্তু বারবার মেইল দেয়ার পরও অধিকাংশ শিক্ষক নিজের তথ্য হালনাগাদ করেন না।

তিনি বলেন, শিক্ষকরা নিজেরা আপডেট হতে না চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় আগাবে না। সকল শিক্ষক নিজের গবেষণাকার্য আপডেট করলে বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের নতুন নিয়োগ, বিদেশ গমণ, অবসর কান নোটিশই আইসিটি সেলে আসে না। তাই আমরা চাইলেও সব সময় তথ্য আপডেট রাখতে পারিনা। ওয়েবসাইট আপডেট রাখার জন্য প্রসাশনের সাথে সমন্বয় থাকা জরুরি।

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার বলেন, ওয়েবসাইটের কাজ চলছে। সবাইকে বলে বলে কাজ করাচ্ছি। আমার নিজেরও আপডেট নেই। তথ্য আপডেট করতে সময় প্রয়োজন। আস্তে আস্তে সবাই আপডটে করবে।

জাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এ মামুন বলেন, গবেষণা তথ্য আপডেটে অবহেলার জন্য আমরা র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ছি। যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে একটু সচেতনার অভাবে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের শিক্ষকরা অনেক যোগ্য ও তাঁদের গবেষণার মান উন্নত। শুধু শিক্ষকদের গবেষণা তথ্য আপডেট করলেই জাবি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় স্থান করে নিবে।

জাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আমির হোসেন বলেন, শিক্ষকদের কয়েকবার নোটিশ করা হয়েছে। শিক্ষকরা নিজেরা আগ্রহী না হলে আমরা তো বাধ্য করতে পারি না। এ বিষয়ে আবারও উদ্যোগ নেয়া হবে।

জাবি উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নরুল আলম বলেন, সবাইকে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। শিক্ষকরা তাদের তথ্য আপডেট করবেন। গবেষণাকার্যের তথ্য আপডেটের বিষয়ে তিনি বলেন, দ্রুতই আপডেট করা হবে।