এবার মাস্টার্স পরীক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি জাবি শিক্ষার্থীদের
স্নাতকোত্তরের (মাস্টার্স) চূড়ান্ত পরীক্ষা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজের হাতে তুলে দেন। উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে অফিস না করায় স্মারকলিপিটি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের হাতে জমা দেন তারা।
এতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, আমাদের স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পরীক্ষা ও ফলাফল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। সেখানে আমরা নির্ধারিত সময়ের থেকে এক বছরের বেশি পিছিয়ে থাকার পরেও এখনও পরীক্ষা বিষয়ক কোনো নির্দেশনা পাইনি, যা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক ও দুশ্চিন্তার কারণ।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, করোনা মহামারী আমাদের জন্য একটি মূর্তিমান বাস্তবতা। এর মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় ৪৫তম আবর্তনের স্নাতক চূড়ান্ত পর্ব পরীক্ষা অনলাইনে সমাপ্ত করেছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে ৪৪তম ব্যাচের পরীক্ষার ব্যপারে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় একটি দীর্ঘ সেশনজট এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমাদের অধিকাংশেরই সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা শেষের পথে। এমনকি স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফলের অভাবে আমরা অনেক চাকরির আবেদনও করতে পারছি না এবং আমাদের পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম আটকে আছে। এমন অবস্থায় আমাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা জীবন পরিচালনা করার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম ব্যাচের (তৃতীয় বর্ষ) শিক্ষার্থীরা। এছাড়া একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিব সানোয়ার হোসেনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সে সময় মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালের ৯ মার্চ। চার বছর অতিক্রম হয়েছে অথচ এখনও তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে পারিনি।
অন্যদিকে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ও হলসমূহ খুলে দেওয়ার দাবিসহ তিনদফা দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে স্মারকলিপির মাধ্যমে আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
শাখা ছাত্রলীগ তাদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করে, শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত না করে অনলাইন পরীক্ষা ও ক্লাস পরিচালনা করার ফলে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের প্রতিকূলতার স্বীকার হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যদি হলে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন তাহলে একদিকে যেমন গুণগত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের আশেপাশে বাসা ভাড়া করে থাকতে গিয়ে যে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে তা অনেকাংশে লাঘব হবে।