জাবিতে র্যাগিং, ২ বছরে পাঁচ ছাত্রীসহ বহিষ্কার ২৯
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিংয়ের দায়ে আবারও বহিষ্কৃত হয়েছেন ১১ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে গত দু’বছরে র্যাগিং কেলেঙ্কারি বহিষ্কৃত হলেন মোট ২৯ শিক্ষার্থী। বহিষ্কৃতদের সকলেই ৪৭ ব্যাচের (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী এবং যাদের মধ্যে রয়েছে পাঁচজন নারী শিক্ষার্থী।
এর আগে, ২০১৯ সালের মার্চে জুনিয়র (৪৮ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের দায়ে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৭ ব্যাচের দুই ছাত্রীসহ সাতজন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের তিন ছাত্রীসহ মোট ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরকে রাতের বেলায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে র্যাগ দেওয়ার অভিযোগ ছিলো।
এবারের বহিষ্কারের ঘটনায় ৪৭তম ব্যাচের ১১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নির্দেশনামা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) রাত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হলের কিছু অবৈধ অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা কেও এ হলের এলোটেড ছিলোনা। উপরন্তু এ হলে তারা জুনিয়রদের ওপর র্যাগিং এর সাথে জড়িত ছিলো।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের মো. শিহাব ও মোহাম্মদ মশিউর রহমান, চারুকলা বিভাগের মো. আকাশ হোসেন ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের মো. তামিম হোসেন ও মো. রিজওয়ান রাশেদ সোয়ান, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের মো. ফয়জুল ইসলাম নিরব, বাংলা বিভাগের মো. শিমুল আহমেদ, ইংরেজি বিভাগের সাকিল মাহমুদ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ ও মো. রোজেন নুর এবং ইতিহাস বিভাগের সারোয়ার হোসেন সাকিল।
এদের মধ্যে শিহাবকে দুই বছর ও বাকিদের এক বছর করে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। বহিষ্কারের নির্ধারিত সময়ে এই শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল কিংবা ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না। এছাড়া বহিষ্কারাদেশ শেষ হলে বঙ্গবন্ধু হল ছেড়ে তাদের জন্য বরাদ্দ করা হলে উঠারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ৪৮তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) শিক্ষার্থীদেরকে র্যাগিংয়ের অভিযোগে উঠে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে গত ৯ জানুয়ারি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক বিশেষ সভায় বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের দিন থেকে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ২২ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বহিষ্কৃত এই শিক্ষার্থীরাসহ ৩০-৩৫ জন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেওয়ার জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গণরুমে যায়। র্যাগ দেওয়ার এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে প্রথম বর্ষের ফয়সাল আলমকে ডেকে নিয়ে পরিচয় দিতে বলে তারা। এ সময় ফয়সাল উচ্চস্বরে হলের নাম বলতে না পারায় তাকে নানানরকম শারীরিক কসরত করতে বলে বহিষ্কৃতরা। ফয়সাল এতে অস্বীকৃতি জানালে তার ডান গালে পর পর দুটি থাপ্পড় দেয় শিহাব। দ্বিতীয় থাপ্পড় দেওয়ার পরেই ফয়সাল খিচুনি দিয়ে পড়ে যায় এবং তার কান দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ফয়সাল বাকরুদ্ধ হয়ে যায় এবং তার বন্ধুরা এবং দ্বিতীয় বর্ষের তিনজন মিলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।