টিএসসি ভাঙার সিদ্ধান্ত বাতিল চায় প্রগতিশীল ছাত্র জোট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির বর্তমান অবকাঠামোকে ভেঙে ফেলে বা পরিসরকে নষ্ট করে কোনোরুপ অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। এছাড়া হল খুলে পরীক্ষা নেয়া এবং এ বছর শিক্ষার্থীদের সকল বেতন-ফি মওকুফেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সংগঠনটির ঢাবি শাখার সমন্বয়ক মেঘমল্লার বসু, সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব কান্তি রায় প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি টিএসসির মত ঐতিহ্যবাহী এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা ভাঙা হবে! আমরা বলতে চাই টিএসসি শুধুমাত্র কতগুলো ইঁটের স্থাপনা নয়। টিএসসি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ নয়, এ হলো জাতীয় সম্পদ। টিএসসির বর্তমান অবকাঠামো ভাঙার সিদ্ধান্ত ইতিহাসকে মুছে ফেলার সামিল।অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টিএসসি ভেঙ্গে ফেলার অথবা উন্নয়নের নামে এর মূল অবকাঠামো বিকৃতি এবং জনপরিসর নষ্টের এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে।
তারা বলেন, ‘‘কারোকালে অর্থনীতির ভঙুর দশা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে এর ভেতরটা কতখানি ফাঁপা! এই সময়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং তাদের পরিবারগুলোও। শিক্ষার্থীদের অনেকে হলে থেকে টিউশন করে চলতো, তারাও বিপাকে পড়েছে। আর্থিক-মানসিক কোনভাবেই ভালো নেই শিক্ষার্থীরা। এমন অবস্থায় বিভাগগুলো ফোন করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই সংকটের সময়ে পাশে তো পাচ্ছেই না বরং শিক্ষার্থীদের উপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত। করোনাকালের শুরু থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের এ বছরের সকল বেতন-ফি মওকুফ করার দাবি করেছি। আমরা পুনরায় প্রশাসনের প্রতি, করোনাকালের সকল বেতন-ফি মওকুফের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরছি।’’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ঢাবি প্রশাসান। পরীক্ষা হবে কিন্তু আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে? করোনাকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের ঢাকায় এনে এবং আবাসনের ব্যবস্থা না করে শিক্ষার্থীদের এবং জনগণকেও মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে! এই দায় কার? অথচ প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে নিয়ে এসে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিলো। একারণে আমাদের যৌক্তিক- সময়োপযোগী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রস্তাব হলো- আবাসিক হলগুলো খুলে দিয়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।