আরবী ভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সেমিনার
আরবী ভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘বিশ্ব ভাষা হিসেবে আরবীর গুরুত্ব ও এর চর্চায় বাংলাদেশের অবদান’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। আরবী ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউছুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইবন ইউসূফ আদ্-দুহাইলান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ঢাবি কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবি আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মারূফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও সর্বত্র ব্যাপক আরবী চর্চা হয়ে থাকে। এদেশের মুসলিম জনগণ আরবী ভাষাকে তাদের ধর্ম ও কর্মের ভাষা হিসেবে হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তারা শান্তির ধর্ম ইসলামকে বাস্তব জীবনে প্রতিফলন করে শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করে থাকে। শহর-নগর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামী মূল্যবোধ ধারণ করে থাকে।
উপাচার্য আরবী ভাষা চর্চাকে বেগবান করার জন্য সৌদি অর্থায়নে বাংলাদেশে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে জেনে সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, আরবী কুরআন-সুন্নাহর ভাষা। মহানবী (স)’র বাণী ছিল খুবই অর্থব্যঞ্জক অথচ সংক্ষিপ্ত। এ ভাষায় অহী নাযিল হওয়ার স্থান সৌদি আরব হওয়ায় আমরা গর্ব অনুভব করি। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্ক বিদ্যমান। জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে আরবী স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এ ভাষা আগে থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বাহন ছিল।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জর্ডানের অধ্যাপক বাস্মাহ তোলায়লান আস্-সালাম, মরক্কোর অধ্যাপিকা হুদা আ‘মারাহ, তিউনেশিয়ার অধ্যাপিকা ওয়াফা আয্-যুহাইলী, সুইডেনে প্রবাসী আফ্রিকান বংশোদ্ভূত জনাব জুদ্দা আব্দুল্লাহ ও কিরগিস্তানের ড. সাইয়্যেদ ইজ্জত আবুল ওয়াফা।