ঢাবিতে ‘সংবাদপত্রে বিজয়গাঁথা’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী
৪৯তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘সংবাদপত্রে বিজয়গাঁথা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। বুধবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আয়োজিত প্রদর্শনীতে স্থান পায় মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন সময়ের দুর্লভ ছবি ও সংবাদপত্র।
বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া।এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবিরসহ সংগঠনের নেতারা।
এবারের আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে শতাধিক আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে, এজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। মহান মুক্তিযু্দ্ধ এবং চূড়ান্তভাবে যে বিজয় হয়ে গেলো, সেই বিজয়গাঁথা কীভাবে পত্রপত্রিকায় প্রতিফলিত হয়েছিলো, তার একটি সচিত্র প্রতিবেদন নিয়ে আজকের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এটির মাধ্যমে যেটি ঘটবে সেটি হলো, ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তথ্য আদান প্রদান, সেটি চলমান থাকবে। কেননা একসময়ে এগুলো পত্রপত্রিকায় প্রতিফলিত হয়েছিলো, তখনকার পাঠক সমাজ এটি পাঠ করতেন অনুধাবন করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম গবেষক ছাড়া কেউই এগুলো আগ্রহ ভরে দেখে না। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে যেটি ঘটবে সেটি হলো, অগণিত দর্শক যারা এগুলা দেখবেন, খানিক সময়ের জন্য হলেও তারা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে পূর্বের সেই মূল্যবোধ ফিরে যেতে পারবেন।
এদিকে ডুজার’র প্রদর্শীত চিত্রে সেই সময়ও ধর্মের নানা রকম অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে উল্লেখ করে ঢাবি উপাচার্য বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বহিঃপ্রকাশ সেদিন পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসররা ঘটিয়েছিলো। তারা ব্যক্তিগতভাবে চিঠিপত্র লিখতো, পত্রিকায় লিখতো ও সভা সমাবেশের আয়োজন করতো, যেখানে ধর্মের অপব্যাখ্যা থাকতো।আজকেও কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী থাকে, যারা নানাভাবে ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরি করে। এবং বিভিন্ন সভ্যতার স্মারকসমূহ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। এগুলো ১৯৭১ এর অনভিপ্রেত ঘটনাগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই আমরা খেয়াল রাখবো, উগ্র অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তি অপব্যাখার কারণে যাতে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনার উদ্রেক না ঘটে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মাটি চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক শক্তির দেশ। এ দেশে প্রত্যেক মানুষ তাদের নিজের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি নিয়েই বসবাস করে। সেই সভ্যতার ধারা অব্যাহত থাকবে সেটাই প্রত্যাশা।
উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকবৃন্দ তারা শুধু সাংবাদিক নয়, শিক্ষার্থীও। তাদের মাঝে পেশাদারিত্বের যে গভীরতা তা বহুমাত্রায় প্রবেশ করে। কেননা তারা অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পড়াশুনা করে, আবার সাংবাদিকতাও করে। ফলে তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিশারীর ভূমিকা পালন করবে।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী সম্পর্কে সংগঠনটির সভাপতি মেহেদি হাসান বলেন, জনমত গঠন করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। পৃথিবীর ইতিহাসের যে কোন যৌক্তিক গণআন্দোলনে গণমাধ্যমের ভূমিকা দৃশ্যমান। তেমনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সংবাদ এবং ছবি সংবাদপত্রে প্রকাশ করার মাধ্যমে এদেশের মানুষ কে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে। আমি মনে করি সাংবাদিক সমিতি যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন পর্যায়ক্রমে এ মহতী ধারা অব্যাহত থাকবে।