১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৫

নিয়োগ স্থগিতে কারণ জানতে চাইবেন রাবি ভিসি

উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান  © ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো কারণ বলেনি। শুধুমাত্র উল্লেখ করেছে প্রশাসনিক কারণ। আমরা এটা (নিয়োগ বন্ধের কারণ) জানতে চাইবো এবং আমরা দেখবো যে এ বিষয়টা কিভাবে তাদের সাথে সলভ (সমাধান) করা যায়।

আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে রাবিকে দেওয়া দুটি বাসের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য এসব কথা বলেন।

এর আগে গত ১০ ও ১৩ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২টি চিঠি আসে। এসব চিঠিতে নিয়োগ নীতিমালা নতুন করে প্রণয়ণ, রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি, উপ-উপাচার্যসহ ৭ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে তলব করা হয়।

চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অভিমতের কিছু নাই। মন্ত্রণালয় থেকে আসা চিঠিতে শুধু নীতিমালা কথা বলা হয়েছে। আমার মনে হয় যে এটা ওপেন না, এটা আমাদের এমনি জবাব দিতে হবে।

আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে কিনা এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, না না, চিঠি আসলোই তো কালকে। এছাড়া রেজিস্ট্রারের অব্যাহতি বিষয়টি আইনি ব্যাপার।

প্রসঙ্গত, উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তনের ঘটনায় চলতি বছরের শুরুর দিকে রাবির উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দেন রাবির অর্ধশতাধিক শিক্ষক ও কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সদস্য ড. দিল আফরোজ বেগমকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ওই কমিটি গত ২২ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেয়।

ইউজিসির ওই তদন্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহান ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বেশকিছু অভিযোগের সত্যতা মেলে। প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণগুলো তুলে ধরে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে ইউজিসির তদন্ত দল। ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সম্প্রতি বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১০ ও ১৩ ডিসেম্বর রাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১২টি চিঠি ইস্যু করেছে মন্ত্রণালয়।