১১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:১১

হল না খুলেই ঢাবিতে পরীক্ষা; অযৌক্তিক বলছেন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ফটো

আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ঢাবি কর্তৃপক্ষ। তবে পরীক্ষা হলেও হল খোলা হবে না বলে জানানো হয়। হল খোলা না রেখে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

গতকাল রাতে ঢাবির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত তাদের ব্যর্থ প্রশাসনিক কাঠামোর-ই একটি অংশ। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলা ছাড়া পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত কি যৌক্তিক? এ বিষয়ে ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ফেসবুক গ্রুপে একটি পুল খোলা হয়। উক্ত পুলে গত ১৪ ঘণ্টায় (এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার আগ পর্যন্ত) ৩ হাজার ৪১৯ জন শিক্ষার্থী অযৌক্তিকতার পক্ষে ভোট দেয় এবং ১৬৫ জন শিক্ষার্থী যৌক্তিকতার পক্ষে ভোট দেয়।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক দাবি করে আজ বিকাল ৩ টায় ‘সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য’র পাদদেশে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রশাসনের এরকম একচোখা সিদ্ধান্ত কখনো কাম্য নয়। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকে। হল খোলার ব্যবস্থা না করে যদি পরীক্ষা নেওয়া হয় তাহলে এটি খুবই অন্যায় হবে।

অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় আনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন এই শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় , অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনার্স শেষবর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগ/ইনস্টিটিউট থেকে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সময়সূচি জানতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে পরীক্ষাগুলো তুলনামূলক কম বিরতিতে বা একইদিনে দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময়কাল হবে বিদ্যমান নির্ধারিত সময়ের অর্ধেক। একইভাবে ল্যাব-কেন্দ্রিক ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে।