বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় টানা ৩ বছর ধরে ঢাবির সাবেক শিক্ষক
বিভিন্ন দেশের নানান বিষয়ের গবেষকদের মধ্য থেকে ১ লাখ ৬১ হাজারের সেরা গবেষকদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যানফোর্ড। এ বছর প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় নাম এসেছে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি গবেষক ড. আশরাফ দেওয়ানের।
চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত এ তালিকায় স্থান পেয়ে আসছেন তিনি। সে হিসেবে পরপর তিন বছর এ তালিকায় স্থান করে নেন তিনি।
বর্তমানে ড. আশরাফ দেওয়ান অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বসেরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত হয়ে নানান সময় অতিথি প্রভাষক হিসেবে গিয়েছেন।
ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীতে তাঁর শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ এবং ঢাকা নগরের পরিবেশের ওপর দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য ভূগোল এবং মানুষ-পরিবেশ মিথস্ক্রিয়া নিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণা করছেন।
আশরাফ দেওয়ানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। তিনি নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোলে স্নাতকোত্তর শেষ করে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীকালে জাপান থেকে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরেট করেন। উচ্চশিক্ষা শেষে বাংলাদেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে দীর্ঘ সময় অধ্যাপনা করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধান দৈনিকে নিয়মিত কলাম লেখেন তিনি।
নিজের দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা কাজ করে। বাংলাদেশীে হিসেবে পরিচয় তার কাছে অনেক বড়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেকে বাংলাদেশি বলতে যতটা আনন্দ পাই, তা আর কিছুতে পাই না।’
নিজের এই অর্জনকে এক রকম বিনা মেঘে বজ্রপাত হিসেবে মনে করছেন তিনি। কারণ এর আগেও একাধিকবার নিজের নাম সে তালিকায় উঠলেও জানতেন না তিনি।
ভালো কাজের মূলমন্ত্র হিসেবে একনিষ্ঠতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ড. আশরাফ বলেন, কাজের প্রতি একাগ্রতা, নিষ্ঠা, সততা আর সুচারু টার্গেট থাকলে ডিঙি নৌকা দিয়েও আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়া সম্ভব। জীবনে সফল হতে চাইলে মানুষের প্রতি মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সাহায্য করার মানসিকতা থাকা অত্যাবশ্যক।