হাসপাতাল থেকে ফের অনশনে ঢাবি ছাত্রী
ধর্ষণের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের অব্যাহতি পাওয়া আহবায়ক হাসান আল মামুনসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফের অনশনে বসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রী। আজ রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর হাসপাতাল থেকে ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনস্থলে ফের বসেন তিনি।
জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন ঢাবির ইসলাম শিক্ষা বিভাগের ওই ছাত্রী। এতে হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি এবং ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।
পরদিন ওই ছাত্রী রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। তবে ১৭ দিন পার হলেও কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন তিনি। পরে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে রবিবার রাতে অনশনস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রী বসে আছেন। এসময় ওই ছাত্রীর কাছ থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের তদন্ত কমিটির প্রতিবেবদনের প্রতিক্রিয়ায় জানতে চাইলে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করার অধিকার ছাত্র অধিকার পরিষদের নেই। এছাড়া তদন্ত কমিটির প্রধান বিন ইয়ামিন মোল্লা মামলা পরবর্তীতে মামলাকে মিথ্যা বলে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। যিনি আগেই বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তিনি কীভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান নেবেন। এই তদন্ত কমিটি ভিত্তিহীন। আমি এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করছি।
কমিটির কাছে প্রমাণ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তাদের কাছে ধর্ষণের প্রমাণ কেন দেব? আমি সকল প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেই দিয়েছি।
এর আগে দুপুরে ছাত্র অধিকার পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি ওই প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ প্রকাশ করেন। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. বিন ইয়ামীন মোল্লা এবং সদস্য তারেক রহমান ও রাজিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগকারীকে (ছাত্রী) বিভিন্ন মিডিয়ায় ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মী বলে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া সাংগঠনিক পরিচয়ের মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে। আদতে অভিযোগকারী ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মী নন। কখনো তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
সেখানে আরও বলা হয়, অভিযোগকারী এজাহারে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করলেও হাসান আল মামুন সেটি অস্বীকার করেছেন। তবে একই বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান বিন ইয়ামীন মোল্লা বলেন, আমরা ওই শিক্ষার্থীর কাছে বারবার প্রমাণ চেয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের তা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আমরা সেটা বিবেচনা করবো। আমাদের বিশ্বাস, তিনি এই বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র প্ররোচনায় পড়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত আছেন।