০৪ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৫৯

মুঠোফোন কিনতে ঋণ দেবে ইউজিসি, তালিকা দেয়নি ঢাবি

লোগো্  © ফাইল ফটো

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যার ফলে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোতে তীব্র সেশনজটের শঙ্কা তৈরি হয়। সেশনজটের এ সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে পাঠদান চালাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অনলাইনে ক্লাস পুরোদমে চললেও ডিভাইস না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছেনা।

শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষাঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠাতে বলে ইউজিসি। ইউজিসির এই আহবানে সারা দিয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই তাদের তালিকা জমা দিলেও এখনো তালিকা পাঠায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবি তালিকা না দেওয়ায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালিকাও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারছে না ইউজিসি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও তালিকা পাঠায়নি। আজ পাঠানোর কথা। আমি জানিনা এখনো পাঠিয়েছি কিনা। তবে, তাদের তালিকার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠাতে পারছিনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল বলেন, অনেকগুলো বিভাগ থেকে ভুল তথ্য পাঠিয়েছে। এগুলো কারেকশন করার জন্য আমরা দিয়েছি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের কথা মাথায় রেখে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে চালু হওয়া অনলাইন ক্লাস এখনো চলমান রয়েছে। সম্প্রতি ঢাবির বিভিন্ন অনুষদের চলমান সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরুর আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইন্সটিটিউট প্রধানদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সম্প্রতি এক সেমিস্টার শেষ করার পর আরেক সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করার একটি নোটিশ বিভিন্ন বিভাগে গেছে।

এদিকে, এদিকে ডিভাইসের অভাবে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ডিভাইস না থাকার কারণে তারা চলতি সেমিস্টারের অধিকাংশ ক্লাস করতে পারেনি। এখন, নতুন সেমিস্টার শুরু হলে এই ক্লাসগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে তারা জানিয়েছে। ফলে যারা অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে তাদের থেকে তারা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন বলেন, ডিভাইস না দিয়ে ক্লাস করালে আমাদের জন্য অনেক সমস্যা হয়ে যাবে। আমার মতো অনেকে মুঠোফোন না থাকার কারণে ক্লাস করতে পারছে না। আগে ভাবছিলাম, ক্যাম্পাস খুললে ক্লাস হলে কোর্স সম্পূর্ণ করতে পারবো। কিন্তু এখন যদি পরবর্তী সেমিস্টার শুরু হয় তাহলে কেমনে কি করবো বুঝতেছি না।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ডিভাইস নিশ্চিত না করে করে পরবর্তী ক্লাস শুরু করা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত হবে না।

এ বিষয়ে স্যার এ এফ রহমার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের ডিভাইস নিশ্চিত করে তবেই ক্লাস শুরু করা দরকার। কারণ, শুরুর দিকে যে রেসপন্স পেয়েছিলাম । শেষের দিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিলো। আমি মনে করি, আগে ডিভাইসের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার।

ডিভাইস নিশ্চিত না করে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু কতটুকু উপযুক্ত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল বলেন, শিক্ষার্থীরা এতদিন ক্লাস করছে। যারা ক্লাস করতে পারছে না তারা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর রিভাইস ক্লাস করতে পারবে। এখন অনেক কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নাই। আমরা আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হবো যাতে আমাদের শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা না হয়।