সুমাইয়ার মৃত্যু: প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন মা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। বুধবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার পর অভিযুক্তদের মধ্যে থেকে দুইজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ঘটনায় সুমাইয়ার পরিবারের দাবি সুমাইয়া আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সুমাইয়ার মা নুজাহাত সুলতানা বলেন, আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে রিপোর্ট প্রদান করিয়েছে। সুমাইয়ার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বিষয়ে আমাদের কোনো কিছুই জানতে দেওয়া হয়নি। সুমাইয়ার মা অভিযোগ করে বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার ফলে তাদের দেখাশোনা করার কেউ নেই তাই তারা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জানান, মেডিক্যাল বোর্ডের ওই প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে আটক সুমাইয়ার স্বামী মোস্তাক হোসাইন, শ্বশুর সৈয়দ জাকির হোসেন এবং শাশুড়ি সৈয়দা মালেকা বেগমের জামিন শুনানি করা হয়। এই তিনজনের মধ্যে শ্বশুর সৈয়দ জাকির হোসেন এবং শাশুড়ি সৈয়দা মালেকা বেগমকে জামিন দেন আদালতের বিচারক। মামলার অপর আসামি সুমাইয়ার ননদ জাকিয়া ইয়াসমিন আগেই জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।
পড়ুন: ‘আত্মহত্যা’ করেছেন ঢাবি ছাত্রী সুমাইয়া!
তিনি বলেন, সুমাইয়া বেগম হত্যা মামলায় গঠিত তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড ভিসেরা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এরআগে, ৬ জুলাই সিআইডির বিভাগীয় (রাজশাহী) ফরেনসিক ল্যাবে সুমাইয়া বেগমের মরদেহ ‘রাসায়নিক বিশ্লেষণ’ দাখিল করা হয়। সেখানে সুমাইয়া ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল মতিন বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদনটি পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে সরাসরি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল দলের মাধ্যমে সুমাইয়ার ময়নাতদন্তের এই রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, ২২ জুন রাতে নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর বাগানবাড়ি এলাকায় স্বামী মোস্তাক হোসাইনের বাড়ি থেকে ছাত্রী সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুমাইয়া শহরের হাজরা নাটোর এলাকার মরহুম সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামীক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।