রাবি ছাত্রীদের নামে ফেক আইডি, ভুক্তভোগীরা বিব্রত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাধিক ছাত্রীর নামে ফেক ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। কে বা কারা এটি করছে তা এখনো জানা যায়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের ফেসবুক আইডির নাম ও প্রোফাইল থেকে ছবি সংগ্রহ করে নতুন ফেসবুক আইডি তৈরি করে প্রতারণা করছে চক্রটি। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের কোন তথ্যপ্রমাণ দিতে পারলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ফলো করে তার সমস্ত ইনফরমেশন ব্যবহার করে হুবহু আরেকটি ফেসবুক আইডি তৈরি করে। সেই আইডির সকল বন্ধু-বান্ধবী, সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে প্রথমে নতুন আইডি খোলার নাম করে কথোপকথন শুরু করছে। তারপর ক্রমান্বয়ে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা শুরু করে সবাইকে বিভ্রান্ত করছে।পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট ও নানা বিপদের কথা বলে বিকাশে টাকাও চাওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ফেসবুকে পরিচিত কারো পোস্টে ফেক আইডি থেকে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকে প্রতারক চক্রটি।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী নাম আইরিন আহমেদ সুপ্তি। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জন্য খুবই হয়রানিমূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার নামের ফেক আইডি থেকে জুনিয়রদের বাজে কথা বলছে। বাজে আবদারও করেছে জুনিয়র ছোট ভাইয়ের কাছে।
ভুক্তভোগী আরেক ছাত্রী রেবেকা সুলতানা রত্না বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যৌন হয়রানির পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম এর মতো জঘন্য ঘটনা হরহামেশা আমাদের চোখে পড়ছে। আর এই অপরাধ যৌন হয়রানির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। প্রতিদিন অনেক মেয়েই এই হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। এমনকি আমি নিজেও এই হয়রানির ভুক্তভোগী। আমি ছাড়াও আমার এক বান্ধবী ও কয়েকজন সিনিয়র আপুকেও এই হয়রানির স্বীকার হতে দেখেছি।
ভুক্তভোগী আরেক ছাত্রী মোছ. আসমা আইরিন বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আইনি সহায়তাও নিতে পারছি না। আমি চাই যারা এই নোংরা কাজ করছে তাদের শাস্তি হোক। এতে করে আমার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাবি প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান বলেন, ফেসবুকে ফেক আইডি তৈরি করা হয় অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আর্থিক ও সামাজিকসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেকেই। এ বিষয়ে ডকুমেন্টসহ আমার কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।