২৫ জুলাই ২০২০, ১৪:৫৩

সাংবাদিকদের সংশোধনী দিতে পারেন, হুমকি নয়: বেরোবিসাস

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ’ ক্যাম্পাসে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে গত ২৪ জুলাই যে বিবৃতি প্রদান করেছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বেরোবিসাস)।

প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “আপনারা ‘নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ’ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দায়িত্ববান, কর্মদ্যোম, সাহসী ও নির্ভিক সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে বিবৃতিতে যে সন্দেহ পোষণ ও অভিযোগ করেছেন তা কল্পনাপ্রসূত, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর এবং বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে আপনারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারেন না।”

‘নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ’ অভিযোগ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চারজন সাংবাদিক (মাহফুজুল ইসলাম বকুল, রাব্বী হাসান সবুজ, ইভান চৌধুরী ও মোবাশ্বের আহমেদ) তাঁদের পেশাগত প্রধান কার্যালয়ের (কেন্দ্রীয় অফিস) দৃষ্টিগোচরে আনেননি এবং এ ব্যাপারে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপও নেই। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, উল্লেখিত চারজন সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত সকল সংবাদ তাঁদের পেশাগত প্রধান কার্যালয়কে (কেন্দ্রীয় অফিস) অবহিত করেন না।

সাংবাদিক সমিতির প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আপনাদের জানা উচিত সাংবাদিকতা কারো দ্বারা নির্দেশিত পেশা নয়। সাংবাদিকতা স্বাধীন, তথ্যনির্ভর ও নিরপেক্ষ পেশা। একজন সাংবাদিক কোন সংবাদ কাভার করবে, কোনটা করবে না, কখন, কীভাবে অফিসকে অবহিত করবেন তা একান্তই ওই সাংবাদিকের পেশাগত স্কেল দ্বারা নির্ধারিত হয়। আবার একটা সংবাদ গণমাধ্যম অফিসে পাঠানোর পর তা প্রকাশিত হবে কিনা এবং কীভাবে প্রকাশিত হবে তা নির্ভর করে ওই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সংবাদ ব্যবস্থাপনার উপর। আপনারা যে অভিযোগ করেছেন তাতে বেরোবিসাস মনে করে আপনারা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন না বরং সংবিধানকে অস্বীকার করতে চান। কারণ সংবিধানে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।”

“সাংবাদিকরা সমাজের কাছে দায়বদ্ধ। কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাংবাদিকতা নয়। ভাষাগত ও ব্যাকরণগত ভুলে ভরা বিবৃতিতে আপনাদের অভিযোগগুলো শুধু ভিত্তিহীনই নয়, এই মহান পেশার উপর হুমকিও বটে। এটা আপনাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, জবরদস্তিতার এবং হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করে বেরোবিসাস।”

আরও বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ জ্ঞানচর্চাকারীগণ সব সময় সংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পক্ষে কলমযুদ্ধ করেছেন। আর আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পরোক্ষভাবে “নির্দেশ” দিচ্ছেন। আপনাদের জানতে হবে শ্রেণিকক্ষে শির্ক্ষাথীদের নির্দেশনা দেওয়া চলে, সাংবাদিকদের নয়। কোন প্রতিবেদনে আপনাদের কোন তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে পারেন বা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে ভুল সংশোধনের জন্য আহ্বান জানাতে পারেন কিন্ত এ ধরনের হুমকি মোটেই কাম্য নয়।”

বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়েছে,“কোভিড-১৯-এর কারণে হয়তো ওই সাংবাদিকগণ ওই তিন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার সংক্রান্ত সংবাদটি জমা দিতে পারেননি বা জমা দিলেও হয়তো সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ছাপায়নি। কিন্তু শুধু উল্লেখিত চারজন অকুতোভয় নবীন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে আপনারা যে বিবৃতিটি দিয়েছেন তা অজানা হীনস্বার্থ উদ্ধার করার জন্য কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়েই দিয়েছেন।”

“সাংবাদিকতার মহান আদর্শে উজ্জ্বীবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত একটি ইতিবাচক কার্যকর সংগঠন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। জন্মলগ্ন থেকে এই সংগঠনের দায়িত্বশীল সদস্যবৃন্দ অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা এবং সময়ানুবর্তীতার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার নামে দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এই উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে প্রতিটি সাংবাদিক সদস্য।”

এর আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত যুগান্তর, ইত্তেফাকসহ পাঁচ গণমাধ্যম প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংগঠন ‘নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ’। এক বিবৃতিতে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হলেও সাংবাদিকরা কেউ কেন্দ্রীয় অফিসে সংবাদ পাঠায়নি।

বিবৃতিতে চার জন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়, তারা সকল সংবাদ কেন্দ্রীয় অফিসকে অবহিত করে না এবং এদের কাছ থেকে কোন গঠনমূলক রিপোর্ট পাওয়া যায় না বরং এরা এই দায়িত্বের অপব্যবহার করছে। শুক্রবার নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে আহবায়ক সুমাইয়া তাহসিন হামিদা এবং সদস্য সচিব মোঃ খালিদ হাসান রিয়েল এ বিবৃতি দেন।