যেখানে ধর্ষিত হয় ঢাবি ছাত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পর এ ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণের ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেছে র্যাব ও ডিবি। ঝোপের মধ্যে পড়ে ছিল ছাত্রীটির বই-ঘড়ি-ইনহেলার। সকালে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে যাওয়ার পথে একটি ঝোপের মধ্য থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনাস্থল চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। সোমবার ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
ঢাবি প্রক্টর বলেন, স্পট চিহ্নিত হয়েছে। এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার চুপ থাকবে, তা তো আশা করা যায় না। আন্দোলন হচ্ছে, হবেইতো। আলামতও সংগ্রহ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র্যাবের এক সদস্য বলেন, ঝোপের মধ্য থেকে ইউনিভার্সিটির বই, চাবির রিং, ইনহেলার, ঘড়িসহ বেশ কিছু আলামত আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটিই ঘটনাস্থল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আসলে বিস্তারিত জানানো হবে।
ধর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাত একজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি দায়ের করেন ওই ছাত্রীর বাবা। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহান হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানও ওই ছাত্রীকে দেখতে গিয়ে তার চিকিৎসাসহ আইনানুগ সব ধরনের সহায়তা প্রদানে ঢাবি কর্তৃপক্ষ পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দেন। তিনি দোষীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে শাস্তিরও দাবি জানান।
ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেই ছাত্রীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি ট্রমা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দিতে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ওই ছাত্রী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘মেয়েটির মেন্টালি ট্রমা ছাড়াও শারীরিক কিছু আঘাত রয়েছে। পাশাপাশি সে কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে এবং আমরাও কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছে। এই অবস্থায় তার সঙ্গে দেখা করা, কথা বলা তার জন্য অস্বস্তিকর। কেউ যেন আমরা তার কাছে না যাই।’
এছাড়া ওই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। দোষীদের কঠোর শাস্তি চেয়ে মানববন্ধনসহ শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বান্ধবীর বাসা রাজধানীর শেওড়ায়। সেখানে যাওয়ার উদ্দেশেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠেছিলেন। তবে ভুল করে শেওড়ার আগে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে বাস থেকে নেমে পড়েন তিনি। আর সেখানেই কোনো একটি স্থানে ধর্ষণের শিকার হন।