ক্যাম্পাস থেকে শেষ বিদায় অধ্যাপক জিয়ার, দাফন শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জিয়া রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হলো ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষার্থী, কর্মচারীসহ নানান শ্রেণি পেশার মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে ক্যাম্পাস থেকে শেষ বিদায় নিলেন এ অধ্যাপক।
শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তারা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদের সিনিয়র ইমাম ও খতিব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন তার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
এর আগে ভোর চারটার দিকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক। প্রায় তিন দশকের চাকরি জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগপন্থী এই শিক্ষকনেতা। সর্বশেষ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন নির্বাচিত হন৷
ভোরে রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর সকালে অধ্যাপক জিয়া রহমানের মরদেহ ক্যাম্পাসের শহীদ মুনীর চৌধুরী ভবনের বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। সহকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনেরা সেখানে ভিড় করেন৷ সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে। পরে বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা হয়।
জিয়া রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শহীদ মুনীর চৌধুরী ভবনে থাকতেন। রাতে অসুস্থ বোধ করলে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসান এ শাফীকে ফোন করেন তিনি।
জানাজা শুরুর আগে জিয়া রহমানের ভাই তাঁর জন্য সবার কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে চলতে-ফিরতে আমার ভাই কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকলে বা মনোমালিন্য হয়ে থাকলে সবাইকে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। এ ছাড়া জীবদ্দশায় তিনি যদি কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ করে থাকেন, তাহলে আমাদের জানানোর অনুরোধ রইল, আমরা সেই ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করব। সবাই আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তাঁকে মাফ করে দেন এবং জান্নাত নসিব করেন।
মিরপুরে নিজেদের বাসভবনের পার্শ্ববর্তী মসজিদে বাদ আসর জিয়া রহমানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তাঁর ভাই বলেন, পরে তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে৷
এরপর বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, অধ্যাপক জিয়া রহমান সব সময় হাস্যোজ্জ্বল ও নিরহংকার মানুষ ছিলেন। যেকোনো বিষয়ে তিনি আমাদের সামনে সহজ সমাধান উপস্থাপন করতেন। এমন একজন মানুষের চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
“আমরা দোয়া করব, অনন্তের এই যাত্রায় তিনি যেন ভালো থাকেন। তাঁর পরিবার যেন এই শোক সইতে পারে, সে জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ জানাজায় অংশ নেন৷ পরে মসজিদের বাইরে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান অনেকে।