২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:০৬

আমির হামযাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ; দলে রাখতে চান শোভন

দোকান কর্মচারীকে পিটিয়ে মাথা ফাটানোর দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা আমির হামযাকে দলে রাখার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ঢাবির শীর্ষ দুইনেতা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে একমত হলেও অপরাধীর পক্ষ অবলম্বন করে চুপ আছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হলেও দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঢাবি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামযা। শুভনের নিরবতার কারণে অপকর্মের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ হামযাকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

এ বিষয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা চাই তাকে বহিষ্কার করতে। আপনারা এ ব্যাপারে আপনারা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন।’ ঢাবি শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছি। এখন কেন্দ্রীয় কমিটি এটা চূড়ান্ত করবে।’ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগ কখনোই অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয়না। আমরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।’

ছাত্রলীগের একাধিক নেতার অভিযোগ, অভিযুক্ত আমির হামযা কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী। ফলে শোভনের আপত্তি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশের পরও আমির হামযার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বক্তব্য জানতে তিনদিনে তার মুঠোফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এলাকায় সেবা ফার্মসী দোকানে হামলা চালিয়ে শুভ নামের এক কর্মচারীর মাথা ফাটিয়ে দেন আমির হামযা ও সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রলীগের স্কুল-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হাসান ঝন্টু। গুরুতর আহত অবস্থায় শুভকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকে) ভর্তি করা হয়। তার মাথায় আটটি সেলাই দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

এই ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস। তাঁরা গিয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

আমির হামযার বিরুদ্ধে সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে তিনি ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুলহক নুরকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে যান। গণমাধ্যমে রামদা হাতে দেখা যাওয়ায় সংগঠন থেকেই ব্যাপক সমালোচিত হন এই আমির হামযা। রাজধানীর বাটা সিগন্যালের সামনে কোটা আন্দোলনের তিন নেতাকে মারধর করেন তিনি। সাত কলেজের অধিভূক্তি বাতিল চেয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিলো এই আমির হামযার বিরুদ্ধে । এছাড়াও আমির হামযার বিরুদ্ধে পলাশীতে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ঢাবি ছাত্রলীগ তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করলেও কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাবি ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘অপরাধীদের ছাত্রলীগে স্থান না দিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সুপারিশ করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি এই অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। তাদেরকে যত দ্রুতই বহিষ্কার করা হবে, ততই ভাল।’

এর আগেও অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা দেখা গেছে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের কার্যক্রমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে এক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িত সাবেক ও বর্তমান দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি। এমনকি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পবিত্র সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এই অপরাধীদের একজনকে সফরসঙ্গী করেছিলেন তিনি।

ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, গ্রুপ রাজনীতিতে অবস্থান হারানোর ভয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়না শোভন। অপরাধীদের পাশে রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করলেও সংগঠনের জন্য এটা শুভকর হবে না বলে অভিযোগ এসব নেতাকর্মীর।