ঢাবিতে আইন বিভাগের সান্ধ্য কোর্স বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগে প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন ল নামে সান্ধ্য কোর্স বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৮ মে) বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের সোনালুতলায় এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আইন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ান আহমেদ রিফাতের সঞ্চালণায় সামবেশে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য প্রদান করেন।।
৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী শিশির আহমেদ তানিম বলেন, আইন বিভাগের বিগত একশো বছরের শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জন করা সুনাম এই বাণিজ্যিক নাইট কোর্সের মাধ্যমে আমরা নষ্ট হতে দিব না। আমাদের জনৈক শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক বলেছেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নাকি এই কোর্সের পক্ষে। শুধু প্রাক্তনরাই বিরোধিতা করছে। আমরা বলতে চাই দরকার হলে প্রত্যেক ব্যাচওয়াইজ জরিপ করে শিক্ষকদের কে জানিয়ে দিব যে, কমপক্ষে ৯৫% বর্তমান শিক্ষার্থী এই কোর্সের বিপক্ষে অবস্থান করছে।
আইন ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান বলেন, আমাদেরকে বারবার বলা হচ্ছে যে ফান্ডের অপ্রতুলতার জন্য এ ধরনের কোর্স চালু করা হচ্ছে। আমরা যখন ক্যান্টিনের দাবি তুলি, তখন আমাদের অনেক অ্যালামনাই নিজে থেকে সম্পূর্ণ ক্যান্টিনের খরচ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তবুও আজ পর্যন্ত আমরা ক্যান্টিন পাইনি। এই বাণিজ্যিক কোর্স থেকে যে টাকা আসবে সেটা দিয়ে কী উন্নয়ন করা হবে, তা আমারা সহজেই বুঝতে পারি।
সমাবেশে আইন ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী রাকিব হোসেন বলেন, আইন বিভাগের ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ারের রেজাল্ট হয় ফাইনালের একমাস আগে। যখন ফার্স্ট ইয়ারের দুইটা টার্ম পরীক্ষা হয়ে গেছে। সেকেন্ড ইয়ারের যাদের ইয়ারড্রপ হয় তাদের প্রতি এটুকু সংবেদনশীলতা শিক্ষকেরা দেখাতে পারেন না। তারা রেজাল্টটুকুই সময় মতো দিতে পারেন না। তাই তারা যখন বলেন বর্তমান ছাত্রদের স্বার্থে তাঁরা এই বাণিজ্যিক কোর্স চালু করছেন, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখতে পারি না। তিনি আরও বলেন, নিজেদের দায়িত্বটুকু যথাযথভাবে পালন করতে অতিরিক্ত টাকা দরকার হয় না। সেটুকুই তারা করে দেখান। বিশ্বাস অর্জন করুন। তা না করে এতো উন্নয়ন আমাদের প্রয়োজন নেই।
এদিকে সমাবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যতদিন আইন বিভাগ এ ধরনের বাণিজ্যিকীকরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসছে ততদিন তাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।
এর আগেও ২১ মে আইন বিভাগে প্রফেশনাল মাস্টার্স চালুর প্রতিবাদে সুপ্রিমকোর্টে আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সান্ধ্য কোর্স। তবে নতুন নীতিমালার আলোকে গত বছরের মার্চের শেষ দিকে নীতি নির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম সিন্ডিকেটের এক নিয়মিত সভায় ‘প্রফেশনাল ও এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স প্রোগ্রাম’ নামে সান্ধ্য কোর্স চালুর অনুমোদন দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার এক বছর পর সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগে প্রফেশনাল এল.এল.এম নামে একটি সান্ধ্য কোর্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে সেটি নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।