কালো গাউনে ছেয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস, অভিভাবকরাও উচ্ছ্বাসিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৩তম সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠান চলেছে। সনদ নেওয়া গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতিক্ষিত দিন এটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া সকল শিক্ষার্থীদের ইচ্ছা থাকে কালো গাউন পরে টুপিটা আকাশে উড়াবে। ৩০ হাজারেও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের সে দিনটি আজ ধরা দিল।
আজ শনিবার ভোরের সূর্য ওঠার আগে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে থাকে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা। মেতে ওঠে দিনটিকে ফ্রেমে বন্দি করে রাখার মহা প্রতিযোগিতায়। মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ থেকে দোয়েল চত্ত্বর, টিএসসি থেকে শহীদ মিনার, অপাজেয় বাংলা কিংবা রাজু ভাস্কর্য সবখানে যেন মহাউৎসব আজ। ক্যাম্পাস ছেয়ে গেছে কাল গাউন পরা গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের পদচারণায়।
সমাবর্তন নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে বললে রবিউল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ আমি অনেক একসাইটেড। অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তিনি আরও বলেন, স্মৃতির পাতায় দিনটি ধরে রাখতে ফটোশুট করছেন তারা।
টিএসসি গিয়ে আরেক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, আজ দিনটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল। সন্তান এবং স্বামীকে সাথে নিয়ে ৫৩তম কনভোকেশনে যোগ দিয়েছি।
সকাল থেকে অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের সাথে ছবি তুলতে থাকেন নানান ভঙ্গিতে। কেউ বা আশীর্বাদ করার ভঙ্গিতে ছেলের সাথে ছবি তুলছেন।
এক অভিভাবকের কাছে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বাবা হিসাবে অনেক গর্বিত যে মেয়ের কনভোকেশনে আসতে পেরেছি।
আরেক অভিভাবক অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমি ৩৩ বছর আগে এখানে পড়ালেখা করেছি। আমি সমাবর্তন পায়নি। কিন্তু আমার মেয়ে ২টা সমাবর্তন পেয়েছে এবং ২টিতে তিনি এসেছেন। তিনি আরও বলেন, তার মেয়ে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন। তিনি মা হিসাবে অনেক গর্বিত আজ এখানে আসতে পেরে।
বেলা ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ মোট তিনটি ভেন্যুতে শুরু হয় এই সমাবর্তন। এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৩০ হাজার ৩৪৮ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নিচ্ছেন। এবার ১৫৩টি স্বর্ণপদক দেওয়া হবে। তাছাড়া সমাবর্তনে ৯৭ জনকে পিএইচডি, ২ জনকে ডিবিএ এবং ৩৫ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হবে।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সভাপতিত্ব করছেন। এ সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জঁ তিরোল। সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করা হবে।