সৌদি ডেটা অ্যান্ড এআই অথরিটির প্রধান বিজ্ঞানী বাংলাদেশের এহসান

এহসান হক
এহসান হক  © সংগৃহীত

সৌদি আরবের জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের প্রধান গবেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষক এহসান হক। এখন তিনি কাজ করবেন সৌদি সরকারের তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগ ন্যাশনাল এআই সেন্টার অফ সৌদি ডেটা অ্যান্ড এআই অথরিটির (সাডায়া) প্রধান বিজ্ঞানী হিসেবে। সাডায়া সৌদি ডেটা অ্যান্ড এআই অথরিটি হিসেবে কাজ করে।

এহসান হক পড়াশোনা করেছেন রাজধানীর উদয়ন স্কুল ও ঢাকা কলেজে। এরপর তিনি স্নাতকের জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির পেন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক করার পর তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেম্ফিস থেকে সম্পন্ন করেছেন তার মাস্টার্স ডিগ্রি। তিনি পিএইচডি করেছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে। ২০১৬ সালে এমআইটি টেক রিভিউ তাঁকে ৩০ বছরের নিচে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ৩৫ জন বিজ্ঞানী হিসেবে ভূষিত করেন। ২০১৭ সালে সায়েন্স নিউজ তাকে ‘টেন সায়েন্টিস্ট টু ওয়াচ’ হিসাবে চিহ্নিত করেন।

সৌদি আরবকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিশ্বের অন্যতম শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সাডায়া। তথ্যকে একুশ শতকের নতুন ‘তেলে’ পরিণত করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে এর মধ্যে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে দেশটি। এখাতে ২০৩০ সালে সৌদির বিনিয়োগ  ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এহসান হক ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে গুগল ফ্যাকাল্টি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিন তাঁকে চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একজন উদীয়মান পথ প্রদর্শক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এহসান হক আমেরিকার রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ছুটি নিয়ে নতুন দায়িত্ব সৌদি আরবের সাডায়ার সঙ্গে কাজ করছেন।

এহসান হক জানিয়েছেন, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুষম এবং নৈতিক প্রয়োগ সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্র; যেমন স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, ধর্ম, জলবায়ুতে কি করে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা যায়, তা নিয়ে গবেষণা করতে চান। এছাড়াও তিনি লক্ষ্য অর্জনে সময়োপযোগী নীতিমালা, কৌশল প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন সৌদির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সব রকম গবেষণা এবং উন্নয়নে।


সর্বশেষ সংবাদ