সিএনজি চালককে কান ধরে ওঠ-বস করালেন ছাত্রলীগ নেতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এক সিএনজিচালককে কানধরে ওঠ-বস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘট।
অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম সাদিক খান। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক সহ-সভাপতি। মাদকের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সিএনজিচালককে ছাত্রলীগের সাবেক ওই নেতা ২০ বার কান ধরে ওঠ বস করার হুকুম করছেন। ভিডিওতে ছাত্রলীগের সাবেক ওই নেতাকে বলতে শোনা যায়, তুমি কিভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলা হ্যাঁ? ঠিকভাবে না ভুলভাবে? এসময় সিএনজিচালক উত্তর দেন, ভুল হইছে ভাই। প্রতিউত্তরে সাদিক খান বলেন, ভুল করছো, কোথায় এসে তুমি ভুল করছো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আইসা ভুল করছো। গাড়ির মধ্যে একগাদা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আইসা ভুল করছো। তুমি বলো তোমার কি শাস্তি হওয়া উচিত? তুমি এখন ২০ বার কান ধরে ওঠ বস করো।
এরপর সিএনজিচালক কান ধরে ওঠ বস করেন৷ এসময় সাদিক খান বলতে থাকেন, “তাড়াতাড়ি কর, নইলে থাপড়ায়ে নিচখান সমান করে দিবানি।”
সিএনজিতে থাকা যাত্রীদের উদ্দেশ্যে সাদিক খান এক পর্যায়ে বলেন, আপনারা কিছু মনে কইরেন না। আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এটা করলাম। কান ধরে ওঠ বস করার পর তাকে আরও পাঁচবার বোনাস কান ধরে ওঠবস করতে বলেন ওই নেতা। পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায় তাড়াতাড়ি কর।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাদিক খান বলেন, ভুল পথে গাড়ি চালানোর জন্য ওকে কান ধরে ওঠ বস করিয়েছি। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এ কাজটি করেছি। তাকে আরো বেশি শাস্তি দেওয়ার দরকার ছিল। কান ধরানোর জায়গায় নীলডাউন করালে (মুরগির মতো বসিয়ে রাখা) আমার ভালো লাগতো। অন্যদেরকে সচেতন করার জন্য ভিডিওটি ফেসবুকে দেয়া হয়েছে।
একজন সচেতন নাগরিক হয়ে মোরাল-পুলিশিং করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই শাস্তিকে জনসেবা বা সচেতনা বৃদ্ধি বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আলেচনায় থাকতে হবে, সেটা হোক সমালোচনা, ডাজন্ট ম্যাটার।