০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:০৩

শিক্ষিকাকে ধর্ষণের সত্যতা না মেলায় স্বপদে বহাল জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি

মেহেদী হাসান রনি  © ফাইল ফটো

রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান রনির অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। রবিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান রনির ওপর আরোপিত অভিযোগ আদালতে সত্য প্রমাণিত না হওয়ায় তার অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পুনরায় রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে পুনর্বহাল করা হয়।

এছাড়াও আগামী ২ মাসের মধ্যে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান রনির বিরুদ্ধে ভুয়া বিয়ে করে একাধিকবার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এক স্কুল শিক্ষিকা। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ১২ অক্টোবর রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিলো তাকে। তখন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমন সরকারকে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো।

ওই মামলার এজাহারে জানা যায়, রংপুর নগরীর কেরানীপাড়া মহল্লার তরুণী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০১৭ সালে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রনির বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুর ফতেহপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আবু বক্কর। পরিচয়ের পর থেকে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

স্কুল শিক্ষিকা জানায়, রনি তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় কাজের কথা বলে ১৮ লাখ টাকা নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপরও বিয়ে করার কথা বললে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন। পরে তার বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের চাপে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল মেয়েটিকে নীলফামারীতে বিয়ে করার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজল কুমারের বাসায় নিয়ে গিয়ে ভুয়া কাজী এনে আমাকে বিয়ে করেন। এরপর ওই রাতে তাদের বাসর হয়।

স্কুল শিক্ষিকার অভিযোগ, বিয়ের পর তাকে রনির বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে নানান টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এর মধ্যে রনি ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করায় আর ছাত্রলীগ করা হয়তো সম্ভব হবে না। সে কারণে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ২০ লাখ টাকার দরকার। সেই টাকা তাকে জোগাড় করে দেয়ার জন্য চাপ দিলে টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি প্রদান করে।

এদিকে স্কুল শিক্ষিকা রনিকে বিয়ে করার জন্য আবার চাপ সৃষ্টি করলে গত ৫ জুন তাদের কেরানীপাড়ার বাসায় আসে। সেখানে রাত্রিযাপন করে এবং তাকে ধর্ষণ করে। কথা দেয় তাকে স্ত্রীর অধিকার ফিরিয়ে দেবে, বাসায় নিয়ে যাবে। কিন্তু বিভিন্ন টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, উল্টো রনি তাকে সরে যাবার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। সে হুমকি প্রদান করে তার হাত অনেক লম্বা প্রশাসন তার কথামতো চলে। এ ধরনের নানান হুমকি-ধমকি দিতে থাকে।