ভাস্কর্য বিতর্কে ছাত্র অধিকার পরিষদের একাংশের ৫ দফা
কোনো ধরনের দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ভাস্কর্য বিতর্কের সুষ্ঠু সমাধান চায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একাংশ। একই সঙ্গে আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্য করে হেয় প্রতিপন্ন ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য না দেওয়ারও আহবান জানিয়েছে তারা।
আজ বুধবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এই আহবান জানিয়েছেন।
ছাত্র অধিকার পরিষদে মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে গত দুমাস ধরে সংগঠনের পুরনো নামে আলাদাভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে পরিষদের এ অংশটি।
সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা ঘোষষা করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে- ১. কোনো প্রকার ‘দ্বন্দ্বে’ না জড়িয়ে দুপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ‘ভাস্কর্য বিতর্কের’ সুষ্ঠু সমাধান; ২. আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্য করে ‘আক্রমণাত্মক বক্তব্য’ না দেওয়া; ৩. উত্তেজনার বশে বা কারো উসকানিতে দেশের কোনো ভাস্কর্যের ক্ষতি না করা; ৪. দেশ ও জাতির ‘শান্তি বজায়’ রাখার নিমিত্তে সব ধরনের ‘ধর্মীয় উসকানিমূলক’ কর্মকাণ্ড পরিহার করা; ৫. ভাস্কর্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়’ এমন কোন কর্মকাণ্ড না করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এই অংশের আহবায়ক এ পি এম সুহেল। তিনি উত্তেজনাবশত বা কারও উস্কানিতে দেশের বিদ্যমান ভাস্কর্যগুলোর কোনো ধরনের ক্ষতি না করতে সবার প্রতি আহবান জানান। এছাড়া দেশ ও জাতির শান্তি বজায় রাখতে সব ধরনের ধর্মীয় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার এবং ভাস্কর্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করারও আহবান জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এই অংশের সদস্য সচিব ইসমাঈল সম্রাট, উপদেষ্টা মোহাম্মদ উল্লাহ মধু ও মুজাম্মেল মিয়াজী, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সমন্বয়ক সৈয়দ সামিউল ইসলাম ও একেএম রাজন হোসাইন, যুগ্ম আহবায়ক শাকিল আদনান,পৃথু নাঈম, রিয়াদ হোসেন, রুবেল হোসাইন, সাজ্জাদুল শাওন,মোস্তফা ফরাজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সদস্য সচিব ইসমাঈল সম্রাট বলেন, চলমান ভাস্কর্য ইস্যুতে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সরকার ও আলেম-ওলামা দুপক্ষকেই অতি নমনীয় হওয়ার আহবান জানাই আমরা। সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ আমরা জানি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বরাবরের মতই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানে অঙ্গীকারবদ্ধ। বর্তমানে ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিরসনে ছাত্র সমাজেরও ভূমিকা থাকবে।