জনগণের অর্থে পূর্ণকালীন রাজনীতিক নাঈম 

নাঈম আহমাদ
নাঈম আহমাদ  © ফেসবুক থেকে নেওয়া

সমসাময়িক বিশ্বে ‘ক্রাউডফান্ডিং’ বা গণ-অর্থায়ন কথাটি বেশ জনপ্রিয়। ‘ক্রাউডফান্ডিং’ বলতে অনলাইনে জনগণের কাছ থেকে গণচাঁদা সংগ্রহ করাকে বোঝানো হয়। সাধারণত মহৎ কোনো উদ্দেশ্যে বা লক্ষ্যেই ক্রাউডফান্ডিং করা হয়। বাংলাদেশেও বিভিন্ন ইস্যুতে তা দেখা গেছে অসংখ্যবার। তবে ক্রাউডফান্ডিং করে কেউ বাংলাদেশে ফুল টাইম রাজনীতি করবেন, জীবনধারণ করবেন, এরকম উদাহরণ তেমন নেই। প্রথমবারের মতো দেশে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে ফুল টাইম রাজনীতি করার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ও সংগঠক নাঈম আহমাদ।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছ থেকে গণচাঁদা বা টাকা তুলেন নাঈম। তার পর ওই টাকায় রাজনীতি ও জীবননির্বাহ করেন। ক্রাউডফান্ডিং করে কোন মাসে কত পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ হয়, সে তথ্যও ফেসবুকে সকলের সামনে তুলে ধরেন তিনি।  

নাঈম তার জীবনে ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত থেকেছেন বেশ কয়েকবার। বর্তমানে জাতীয় স্বার্থে একজন পূর্ণকালীন রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে জনগণের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা (ক্রাউডফান্ডিং) নেন তিনি। 

নাঈম আজ শুক্রবার (৭ মার্চ) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার রাজনৈতিক ক্রাউডফান্ডিংয়ের একটি হিসাব তুলে ধরেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে আমার রাজনৈতিক ক্রাউডফান্ডিং প্রকল্প থেকে ২৭,১৩০/- টাকা সংগ্রহ হয়েছে, যা গত মাসের তুলনায় ১,৪৫০/- টাকা কম।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই মাসে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে কিছু ডোনারের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। তারপরও, সামগ্রিকভাবে ডোনেশন সংগ্রহের হার ভালোই ছিল।’  

‘ক্রাউডফান্ডিং’ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাঈম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এটি একটি ইতিবাচক ধারার রাজনীতি। আমাদের গতানুগতিক রাজনীতিতে কিছু বিষয় আছে যেমন, চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং আরো কিছু নেতিবাচক দিক। এই উপায়ে উপার্জন করে মূলত রাজনীতি করা হয়। এর অল্টারনেটিভ বা ইতিবাচক দিক কী হতে পারে?’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের পুরাতন রাজনৈতিক যে বন্দোবস্ত, সেখানে কালো টাকার একটা সম্পর্ক আছে। আমি মানুষের সাথে একটা কমিটমেন্টে আছি যে, আমি এ বিষয়ে রাজনীতিটা করতে চাই। মানুষই আমাকে টাকা দেবে। অর্থাৎ একটা সম্পর্ক হবে, দায়বদ্ধতাও সৃষ্টি হবে এবং স্বচ্ছ ফাইনানশিয়াল পলিসি তৈরি হবে। আমি নিজে এটা অ্যাপ্লাই করছি এবং একটা অ্যাক্টিভিজম আকারেও নিয়েছি। আমাদের তরুণ যারা রাজনীতিতে আসবে তারা যাতে এটা ফলো করতে পারে।’

নাঈম বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশে হিসাবের স্বচ্ছতা নেই আমার জানামতে, তাই আমি মানুষের কাছে যেমন টাকা চাচ্ছি তেমনি মাস শেষে তাদের হিসাবটাও স্বচ্ছভাবে দিচ্ছি। মোটাদাগে বলতে গেলে, পুরাতন রাজনীতি থেকে যখন আমরা নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্তে শিফট হব তখন ফাইনানসিয়াল পলিসি কী হবে তার একটা স্বচ্ছ রূপরেখা তৈরি হবে। আর এরই একটা অধিকতর ভাল দিক হতে পারে এই ক্রাউড ফান্ডিং প্রসেস।’ 

নাঈম আহমাদের রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত হয় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাত ধরে। তিনি ২০০৮ সালে ৮ম শ্রেণীতে দারুন্নাজাত মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার সময় শিবিরের সাথী হন। ২০১১ সালে হন শিবিরের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও চালিয়ে যান শিবিরের রাজনীতি। দ্বিতীয় বর্ষে ছাত্রশিবির থেকে অবসর নেন তিনি।

এরপর মরহুম শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)’র ছাত্র সংগঠন জাগপা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। জাগপা ছাত্রলীগ ঢাবি শাখার সভাপতি হন তিনি। শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার ছাত্র রাজনীতি জীবনের অবসান ঘটে। 

২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ‘জাস্টিস ফর জুলাই’ নামে গড়ে ওঠা সংগঠনের প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন তিনি। এরপর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি যোগদান করেন জাতীয় নাগরিক কমিটিতে।


সর্বশেষ সংবাদ