০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪:১৩

‘প্রতিবন্ধী সন্তান ও কন্যা শিশুকে নিয়ে কী করব’

শহীদ মো. মোসলেহ উদ্দিনের স্ত্রী ও তার দু’সন্তান  © সংগৃহীত

জীবিকার তাগিদে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় লন্ড্রির দোকান করতেন মো. মোসলেহ উদ্দিন। ১০ বছর ধরে স্ত্রী, প্রতিবন্ধী সন্তান থাকতেন একটি ভাড়া বাসায়। প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কোনোমতে চলছিল সংসার। গেল বছরের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত হন এই দোকানি। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মোসলেহ উদ্দিনের স্ত্রী। অথই সাগরে পড়ে যান তিনি, বললেন ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ও কন্যা শিশুকে নিয়ে এখন কী করব।’

জানা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গেল বছরের  ১৯ জুলাই শহীদ হন রাজধানীর বনশ্রী এলাকার লন্ড্রি দোকানি মোসলেহ উদ্দিন। আন্দোলনের দিন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাছরিন স্বামীকে খাবার খেতে বাসায় আসতে ফোন করলেও জীবিত না এসে আসেন লাশ হয়ে। ঘটনার দিন ১৯ জুলাই শুক্রবার দোকান বন্ধ করে জুমার নামাজ আদায় করেন আতিক মসজিদে। সে সময় রামপুরা-ডেমরা সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছিল। এসময় বিটিভির পাশ থেকে আন্দোলনকারীদের দিকে নির্বিচার গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সড়কে অবস্থান নেয়া আন্দোলনকারী ও জুমার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লিরা যার যার বাসায় যেতে সড়কে একাকার হয়ে যায়। এর মধ্যেই  বিটিভির পাশে অবস্থান নেয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছোড়া একটি গুলি মোসলেহ উদ্দিনের গলায় লাগে। এরপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তখন আশপাশের লোকজন তাকে স্থানীয় একটি হসপিটালে নেন। সেখানে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 


শহীদ মো. মোসলেহ উদ্দিনের স্ত্রী মোসা. নাছরিন বলেন, ‘স্বামীকে নিয়ে আমাদের ভালোভাবেই দিন কাটছিল। তবে গত ১৯ জুলাই তিনি বাসায় আসার পথে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর আমার জীবন থমকে গেছে। আমার এক ছেলে সন্তান রয়েছে, সে প্রতিবন্ধী। এছাড়া ঘটনার সময় আমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। গত ১৩ জানুয়ারি আমার কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দুই সন্তানকে নিয়ে চরম বিপদে পড়েছি। তাদের নিয়ে আমি কীভাবে চলবো জানি না। প্রতিবন্ধী সন্তান ও কন্যা শিশুকে নিয়ে কী করবো?।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসার চালাতে টিউশনি করাই। ৪/৫ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চলে না। এছাড়া স্বামী আন্দোলনে মারা যাওয়ায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু টাকা অনুদান পেয়েছি। তা দিয়েই এখন কোনো রকমে চলছি। তবে এ টাকা আর কদিন থাকবে, টাকা শেষ হলে এক প্রতিবন্ধী সন্তান আর এই শিশু কন্যাকে নিয়ে কী করবো? কিছুই ভেবে উঠতে পারছি না।’

নিহতের স্ত্রী বলেন, ‘যারা আমার নিরীহ স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের কাছে আমার দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, ‘এর আগেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনে শহীদ এবং আহতদের একটি তালিকা করা হয়েছে। আমরা আবারো তালিকা করছি। আশা করছি আন্দোলনে শহীদ এবং আহতদের পরিবার শিগগিরই সরকারিভাবে আর্থিক অনুদান পাবেন।’