১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ২০:৪০

সব ক্যাম্পাসে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে: রাকিব

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব  © সংগৃহীত

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সব ক্যাম্পাসে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। ছাত্রদলের পনেরো বছরের ত্যাগ, শ্রম ও সংগ্রাম অস্বীকার করে কোনও ইতিহাস রচনা করা হলে তা ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করা হবে।’ শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে জানিয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক এবং ঐক্যবদ্ধ আছি। যারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কুক্ষিগত করতে চায়, তারা যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। আমি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে চাই, আপনারা এমন কোনও কর্মকাণ্ড করবেন না, যার দ্বারা ঐক্য নষ্ট হয়।’

রাকিব অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সদিচ্ছা পোষণ করছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের একজন নেতাকর্মীকে বিচারের আওতায় আনার জন্য সামান্যতম সদিচ্ছা পোষণ করছে না। সরকার ভেবেছে ছাত্রলীগকে শুধু দায়সারা নিষিদ্ধ করলে তাদের অপকর্ম ঢাকা পড়ে যাবে।’

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তদন্ত কমিটি হয়েছে। কিন্তু সাড়ে পাঁচ মাস পরও কোনও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দ্রুত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে। তাদের ছাত্রত্ব বাতিল ও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা কোনও আল্টিমেটাম দিচ্ছি না। তবে বিচার প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানাচ্ছি। আপনারা যত দেরি করবেন, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া তত সহজ হবে।’

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যেহেতু খুনি হাসিনার মতো ভয়ংকর ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, তাই এখানে আর কোনও আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির বাস্তবতা নেই। তারপরও যদি কোনও রাজনৈতিক দল আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতিতে লিপ্ত থাকে, আমরা ধরে নেবো তারা আবারও একাত্তর সালের মতো কোনও ষড়যন্ত্র করছে।’

সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, সে খুনি সংগঠন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখলাম ছাত্রলীগের কোনও শীর্ষ সন্ত্রাসীকে অন্তর্বর্তী সরকার গ্রেফতার করতে পারেনি। শুধুমাত্র শীর্ষ সন্ত্রাসী নয়, প্রত্যেকটি জেলায় ছাত্রলীগের যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী রয়েছে, তারা এখন ঢাকায় অবস্থান করছে। ছাত্রলীগের সব নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি। যেসব আওয়ামী লীগের দোসর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

মার্চ ফর জাস্টিসে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, মহানগর উত্তরের সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন, দক্ষিণের সভাপতি শামীম মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান মজুমদার, ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি মো. রবিন খান এবং সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।