০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৪৯

হল কমিটি না দেওয়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের উপর ক্ষোভ

  © টিডিসি ফটো

দুই বছরে কোন কর্মীসভা করেনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি। কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও হল কমিটি দিতে পারেননি তারা। কমিটির দাবি জানালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নেতাকর্মীদের হুমকি দেন। ঝিমিয়ে পড়ছে ছাত্রলীগের কার্যক্রম।

সোমবার ছাত্রসমাবেশ ও নির্বাচনী কর্মীসভায় এমন বক্তব্য রেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাবি ছাত্রলীগ। 

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। 
এ সময় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাজেদ সীমান্ত বলেন, আগামী নির্বাচনে ছাত্রলীগের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক কর্মীকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিটগুলোর কমিটি প্রদান করা। কিন্তু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একাধিকবার হল কমিটি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোন বাস্তবায়ন হয়নি। হল কমিটি প্রদান করা হলে নেতৃত্বে আসা কর্মীরা কাজ করতে আরো আগ্রহ পাবে। 
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘মাসখানেক আগে যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলাম তখন দেখলাম মাত্র ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির আগমনের কথা শুনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক থেকে দেড় হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হওয়ার কথা। কিন্তু ৩ ঘন্টার মত বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও ৫০জনের বেশী কর্মীকে দেখতে পাইনি। সভাপতি ও সম্পাদককে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, হল কমিটি না হওয়াসহ আরো কিছু কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তখনই আমি তাদেরকে হল কমিটি ঘোষণার আদেশ দেই। কিন্তু এতদিন হয়ে গেলেও তারা কেন হল কমিটি দিল না তা আমার বোধগম্য নয়। আমি তাদেরকে আজও বলে যাচ্ছি, যত দ্রুত পারো হল কমিটি দিয়ে দাও।’
এছাড়াও ছাত্রলীগ সভাপতি নেতাকর্মীদেরকে উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেকোন মূল্যে নৌকার মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। এই জন্য ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তোমরা মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে এক ঘন্টা করে সময় দিবে। জামায়াত-বিএনপির অপপ্রচারের দাতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।’