জলবায়ু পরিবর্তন রোধের দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে একটি সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তন। এই সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য অশনি সংকেত। বৈশ্বিক জলবায়ুর এই পরিবর্তন রোধে জোরালো পদক্ষেপের দাবিতে রাজপথে নেমেছে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থীরা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার আন্দোলনে নামে দেশটির ক্যানবেরা ও হোবার্টেরা শিক্ষার্থীরা। কিন্তু স্কুল চলাকালে ছাত্রদের ‘আন্দোলনকে’ ভালোভাবে নেয়নি ক্ষমতাসীনরা। আন্দোলনের সমালোচনা করে পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ‘আমরা চাই, স্কুলে পড়ালেখা বেশি হোক আর আন্দোলন কম হোক।’ জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তাঁর সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানই বুমেরাং হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই বলছে, প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্য আন্দোলনে নামতে তাদের আরো উৎসাহিত করেছে। আন্দোলনকারী জাগভির সিংহ বলে, ‘রাজনীতিকদের এখনকার নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভবিষ্যতে আমাদেরও ভুগতে হবে।’
১৪ বছরের জেন হিঞ্চক্লিফি বলে, ‘আমি মত প্রকাশের জন্য ভোটার হওয়া পর্যন্ত বসে থাকতে পারি না। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি আমরা তরুণরা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি। রাজনীতিকদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’
গতকাল দেশটির প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী এবং ২০টির বেশি আঞ্চলিক শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। অনেক শিক্ষার্থীই সরকারের উদ্দেশে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেছে। অনেকের হাতে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করা লেখা পাওয়া গেল। একজন বলে, ‘আমি স্কুলের চেয়েও স্কট মরিসনকে অপছন্দ করি।’
এই ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট’ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ দেশটির সম্পদবিষয়কমন্ত্রী ম্যাট ক্যানাভান। গতকাল তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ক্লাস ছেড়ে আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কিছু শিখবে না। কিভাবে বয়স্ক ভাতা, বেকার ভাতার মতো দাবি আদায় করা যায়, সর্বোচ্চ সেটি শিখতে পারে।
আয়োজকরা জানায়, সুইডেনের ১৫ বছরের কিশোরী গ্রেটা থানবার্গের কাছ থেকে তারা এই আন্দোলনের অণুপ্রেরণা পেয়েছে। সেখানে একই ধরনের আন্দোলন করছে গ্রেটা। অস্ট্রেলিয়ায় এ আন্দোলন শুরু হয় ভিক্টোরিয়ায়। সেখানে মিলু অ্যালব্রেক ও হ্যারিয়েট ও’শিয়া ক্যারি নামে দুই কিশোরী এ কর্মসূচির শুরু করে। এরপরে দেশজুড়ে ছড়ায় আন্দোলন।
সূত্র : বিবিসি