০৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:১৮

কোটা নিয়ে দ্বিমুখী আচরণ করছে সরকার

আন্দোলনকারী তরুণ ছাত্রছাত্রীরা সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল চাননি বরং চেয়েছিলেন সংস্কার। তারপরও সরকার কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  এবার সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে নামিয়ে দেয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের।  এটাকে সরকারের দ্বিমুখী আচরণ বলে সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য একটাই- কোটা সংস্কারের আন্দোলন বাস্তবায়িত হতে দেবে না। সরকার এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।  আন্দোলনের উদ্দেশ্যকে বিভ্রান্ত করতে সরকার সব রকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 

শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততিদের আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীই বলেছেন আন্দোলন করো। সরকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েই তাদের বসিয়েছে। তাহলে বুঝতে হবে কত দুরভিসন্ধিমূলকভাবে এই কাজটি করছে। এজন্যই বলেছি এটা সরকারের দ্বিচারিতা। প্রধানমন্ত্রীকে ‘দ্বিচারিতার’ পথ থেকে সরে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপারে এত উৎসাহী। তিনি কেন পুলিশকে এত লাগামছাড়া লাইসেন্স দিয়েছেন পত্রিকার অফিসে ঢুকে কাগজপত্র সিজ করার। গ্রেফতারের বিষয়ে কেন এত উৎসাহী। অন্য কোন গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের কোনো দৃষ্টান্ত নেই বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

সাংবাদিকদের কোনো অধিকার থাকবে না মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সেই অধিকার বন্ধ করার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। অর্থাৎ এই সরকারের দুর্নীতি, মেগা দুর্নীতি যাতে প্রকাশ করা না হয় সেজন্য এই আইন করা হয়েছে। হলমার্কের অনুসন্ধানী রিপোর্ট, ব্যাংকের অর্থ লোপাটের নিউজ বলুন- এগুলো কি মিথ্যা ছিল? মিথ্যা ছিল না। সেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী খুব ব্যথিত। আরও যেসব মহাদুর্নীতি আছে যার সঙ্গে মহাশক্তিশালীরা জড়িত তা যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্যই এই আইন।