মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান
সচিব কমিটির সুপারিশ বাতিল করে সকল গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন ‘‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’’।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি পৌঁছে দেন। স্মারকলিপিতে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ বাতিলসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, জাতির পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন করতে হবে। ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে তা বাস্তবায়নে কমিশন গঠন করে প্রিলিমিনারী থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সকল নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্য পদগুলোতে চলতি বছরেই নিয়োগ দিতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রথম সেনাবাহিনী, তাই তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে পেনশন, বোনাস, রেশনসহ সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্তরসূরীদের সকল চাকুরিতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলাসহ দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী স্বঘোষিত রাজাকারদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ অন্য সকলের জন্য চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দিতে হবে।
এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নামক সংগঠনটি। সমাবেশে বক্তারা সরকারি চাকুরিতে কোটা সম্পর্কিত সচিব কমিটির সাম্প্রতিক সুপারিশ অবিলম্বে বাতিল করে সকল গ্রেডে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে প্রিলিমিনারী থেকে তা বাস্তবায়ন করার দাবি জানান।
সংগঠনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম জামাল উদ্দিন, সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শহীদ এমপি নুরুল হক হাওলাদারের কন্যা জোবায়দা হক অজন্তা, কোষাধ্যক্ষ ও দপ্তর সম্পাদক আহমাদ রাসেল সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ সেলিম, জোবায়েদ আলম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সোহাগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অনলাইন কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক লামিয়া খানম।
বক্তারা বলেন, ৭৫ সালে জাতির পিতা হত্যার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা আবারো ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের পর ২৯ বছর কোটায় কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকুরি হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী ২৯ বছর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিস্পেষিত হয়েছে। কোটা সংস্কার বা বাতিল করার আগে এই ২৯ বছরের হিসাব দিতে হবে। এ ছাড়া এই ৩০% কোটা তাদের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের সাথে জড়িত। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের দিকে তাকিয়ে হলেও এই কোটা বহাল রাখা জরুরি।
স্বারকলিপি প্রদানপূর্ব সমাবেশ থেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা ৩ অক্টোবর সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন। দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একই কর্মসূচি পালনে আহ্বান জানান সংগঠনের নেতাকর্মীরা