দ্রুত প্রজ্ঞাপন না দিলে ছাত্রসংগঠনগুলোকে নিয়ে দূর্বার আন্দোলন : নুরুল হক
কোটা সংস্কারের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে প্রয়োজনে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে মতবিনিময় করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক সমাবেশে তিনি একথা জানান।
এর আগে কোটা সংস্কারের দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এ পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে আন্দোলনকারীরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিন করে অপরাজেয় বাংলার নিচে সমাবেশ করে তারা।
নুরুল হক নুর বলেন, আজকে বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতনের পরেও ছাত্রসমাজের দাবি পূরণে টালবাহানা করা হচ্ছে। সোনালী ব্যাংকে বিশেষ নিয়োগের সার্কুলার দিয়ে সরকার ছাত্র সমাজের সাথে তামাশা, প্রহসন ও চল চাতুরি করেছে। ৪০তম বিসিএসেও কোটার প্রয়োগ করা হবে। তাই অবিলম্বে ৪০ তম বিসিএসের সার্কুলার ও সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলাকারীদের জঙ্গি আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে আহ্বান জানান। নুরুল হক নুর বলেন, ছাত্রলীগের সবাই খারাপ না। তবে কিছু জঙ্গি ও কুলাঙ্গার আছে। তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
নুরুল হক নুর জানান, ছাত্রসমাজের সাথে যদি টালবাহানা করা হয় তাহলে ছাত্ররা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবে। আর ছাত্ররা ক্ষেপে গেলে কি করতে পারে তা ইতিমধ্যেই তারা রাজপথে দেখিয়েছে। তাই দ্রুত প্রজ্ঞাপন দিন, প্রজ্ঞাপন দিতে দেরি করা হলে প্রয়োজনে আমরা সকল ছাত্র সংগঠনের সাথে মতবিনিময় করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।
যুগ্ম আহ্বায়ক বিন আমিন মোল্লা বলেন, আজ ছাত্রদের নৈতিক দাবি না মেনে তাদের উপর শহীদ মিনারে হামলা করা হলো। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হলো কিন্তু তারা ছাত্রদের কোন দোষ খুঁজে পায়নি। তাই ছাত্রদের বিরুদ্ধে করা সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে হামলাকারীদের বিচার করতে হবে এবং ৫ দফার আলোকে কোটা সংস্কার করতে হবে।
কোটা সংস্কারকারীদের নেতা হাসান আল মামুন বলেন, কোটা পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশকে আমরা স্বাগত জানাই। পাশাপাশি দাবি জানাই শুধু ১ম ও ২য় শ্রেনী নয় ৩য় ৪র্থসহ সকল সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবিগুলো হলো- পাঁচ দফার ভিত্তিতে কোটার সংস্কার, মামলা প্রত্যাহার ও হামলার বিচার।