১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:২৩

ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে চোর-পুলিশ খেলা

কোটা আন্দোলনকারীদের পিছু নিয়েছে ছাত্রলীগের মিছিল। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।  © টিডিসি ফটো

কোটা সংস্কারের দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আন্দোলনকারীরা।  তবে আজ হুট করেই অঘোষিত কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ। এতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনা তৈরী হয়। 

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে আন্দোলনকারীরা। সকাল ১১টায় বিজ্ঞান গ্রন্থাগারের সামনে তারা জড়ো হন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। কোটা আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরির সামনে গেলে ছাত্রলীগের মিছিলও ওদিকে যায়। পরে কোটা আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এসে স্লোগান দিতে থাকলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের পাশে এসে স্লোগান দেয়। এতে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কোটা আন্দোলনকারীরা রাজু ভাস্কর্যের দিকে চলে আসে। কোটা আন্দোলনকারীরা রাজু ভাষ্কের্যের দিকে গেলে তাদের পিছু নেয় ছাত্রলীগ। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মিছিলের সামনে রিকশা জড়ো করে মিছিল আটকে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে দুপক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারীরা রিকশা সরিয়ে দিয়ে ভিসি চত্বরের দিকে চলে যায়। তারপরও থামেননি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারাও মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের পিছু পিছু যেতে থাকেন। ছাত্রলীগের মিছিলে নেতৃত্ব দেন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় তাদের সাথে ছিলো- বিজয় একাত্তর হল, মুহসীন হল, এফ রহমান হল, জহুরুল হক হল, এস এম হলসহ বিভিন্ন হল ও ইনস্টিটিউটের নেতাকর্মীরা। পরে দুপক্ষই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে মিছিল করে ও স্লোগান দিতে থাকে।

ছাত্রলীগের মিছিল আবার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দিকে চলে গেলে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে কোটা আন্দোলনকারীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর, বিন আমিন মোল্লা, মশিউর রহমানসহ আরও অনেকে। 

সমাবেশ বক্তারা কোটা সংস্করের দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবি জানান। একইসাথে ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার বাতিল, সোনালী ব্যাংকের বিশেষ নিয়োগ বাতিলসহ নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানান এবং তিনদফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিন দফা দাবিগুলো হলো- পাঁচ দফার ভিত্তিতে কোটার সংস্কার, মামলা প্রত্যাহার ও হামলার বিচার।