‘অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথ ফুঁসে উঠেছে বারবার’
কৌটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ ক্যাম্পাসে দাবিতে আন্দোলন, ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে উঠা ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে এই দেশের ছাত্র সমাজ তাদের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথে ফুঁসে উঠেছে বারবার। অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সোমবার সকাল ১১টায় শিক্ষা দিবসের ৫৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে কেন্দ্রীয় ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করে। এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন।
সভায় বক্তারা বলেন, আজ থেকে ৫৬ বছর আগে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের শরীফ কমিশনের গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ রুখে দাঁড়িয়ে ছিল। সেদিন ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে প্রাণ হারান মোস্তফা, বাবুল ওয়াজিউল্লাহ। ছাত্রদের সেই আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়েছিল শ্রমিক, কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। ছাত্রদের সেই আন্দোলনের হাত ধরেই আসে ’৬৬ ’৬৯ ’৭১ এর জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের লড়াকু অধ্যায়।
বক্তারা বলেন, আজ শাসকগোষ্ঠী ৬২’র সেই সংগ্রামের ঐতিহ্য ভুলিয়ে দিতে চায়। কারণ স্বাধীনতাউত্তর সকল শাসকগোষ্ঠীর প্রণীত শিক্ষানীতিতে শরীফ কমিশনের সেই প্রেতাত্মাই ভর করে আছে। এখন চলছে শিক্ষার রমরমা ব্যবসা। আর সেই ব্যবসার ভাগ ভাটোয়ারা করছে শাসক শ্রেণি। একদিকে শিক্ষাঙ্গনে চলছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাস আর দখলদারিত্ব। অন্যদিকে প্রশাসনের নিরবতা। ডাকসুসহ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই ছাত্র প্রতিনিধি, নির্বাচন নেই যুগের পর যুগ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হারাচ্ছে তার গণতান্ত্রিক চরিত্র ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার অধিকার। প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোচিং-গাইড বাণিজ্য, দুর্নীতিসহ শিক্ষাঙ্গনে চলছে চরম অরাজকতা। যার যাতা কলে পড়ে ধ্বংস হচ্ছে সাধারণের শিক্ষা জীবন।
বক্তারা আরো বলেন, আমরা মনে করি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি আদর্শের পতাকাতলে সকল অন্যায় অবিচারের মোকাবেলা করে এই দেশের ছাত্র সমাজ শিক্ষা দিবসের সেই মহান ঐতিহ্যকে ধারণ করবে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সেই লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলনে সকল বাম গণতান্ত্রিক শক্তি সমাবেশকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।