ছাত্রলীগকে ডিজিটাল মিডিয়ায় ভূমিকা রাখতে হবে: মোস্তাফা জব্বার
ছাত্রলীগকে ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৈনিক হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দোসররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে যাতে অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, ছাত্রলীগকে এ ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে।
বুধবার রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইডেন মহিলা কলেজ শাখা এ সভার আয়োজন করে।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক দেশটি প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। এরই অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগকে পুর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী মুসলিম লীগকে আওয়ামী লীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দূরদর্শী চিন্তার সাহসী সূচনা।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন একজন নেতা ছিলেন যিনি সুনির্দিষ্ট ভাবে একটি ভূখন্ডকে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন। লাল বৃত্তের মাঝে মানচিত্র খচিত লাল সবুজের পতাকায় বঙ্গভঙ্গের সময় নির্ধারিত সীমারেখাকে প্রকাশ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে যাতে বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে যাতে ভুল ধারণা সৃষ্টি না হয় তারই একটি প্রামাণ্য দলীল হিসেবে তিনি মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা উপস্থাপন করে কূটনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার দূরদৃষ্টির ফসল এই উপমহাদেশের একমাত্র ভাষা ভিত্তিক রাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশ।
মন্ত্রী ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে আমি গর্বিত। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে বের করেছে, ৬৬ এর ৬ দফা, ৬৮ এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান, ৭০ এর নিবাচনে বিজয় এবং ৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর বড় শক্তিতে পরিণত করেছিল।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামসুর নাহার, কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক মাসুম ই রাব্বানী. অধ্যাপক আসমা পারভীন এবং ছাত্রলীগ কলেজ শাখার আহ্বায়ক তাসলিমা আক্তার, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান আরা বেগম প্রমুখ।