০৬ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০৫

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দিনভর অগ্নিগর্ভ সিলেট

নিরাপদ সড়ক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে টানা ৫ম দিনের মত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যসব দিনের মত সোমবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

পরে শিক্ষার্থীরা একই দাবিতে নগরীর চৌহাট্টা অভিমুখে পদযাত্রা করে এবং সেখানে অবস্থানরত সিলেটের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে।

এর আগে রাজধানীর জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে শুক্র ও শনিবার ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রায় তিনশতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অবস্থান নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বাস চলাচল করেনি। পরে সকাল ১১ টার দিকে মূল ফটক থেকে বিক্ষোভসহ নগরীর চৌহাট্টার উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করেন তারা। এসময় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো এলাকা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে শাবি শিক্ষার্থীদের সংহতি প্রকাশের আন্দোলনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে নগরেরচৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে টানা ৫ম দিনের মতো বিক্ষোভ করেন সিলেটের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। দুপুর ২টায় কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘স্কুল ড্রেসে রক্ত কেন? জবাব চাই দিতে হবে’, ‘সারা বাংলার ছাত্র সমাজ, এক হও এক হও’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন’, বন্ধ করা যাবে না’, ‘জিগাতলায় হামলা কেন, বিচার চাই করতে হবে’, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, লাশের মিছিল আর না’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

এদিকে চৌহাট্টা পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে চর্তুদিকে সাময়িক যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জিন্দাবাজার ও অন্যান্য সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ৯ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। কোন ধরণের আশস দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরানো যাবে না।

এর আগেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আশ্বাস দিয়েও শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি। এছাড়া আবার যদি কারো উপর হামলা হয় তাহলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।