ফের সাকিব ভেল্কি, পাত্তা পেল না আফগানিস্তান
সেমির লড়াইয়ে টিকে থাকতে সব ম্যাচেই জিততে হবে টাইগারদের এমন সমীকরণ নিয়ে আজ সাউদাম্পটনে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ৬২ রানের বড় জয় দিয়ে এ লড়াইয়ে ভালোভাবেই টিকে রইল টিম টাইগার্স। এদিন টসে জিতে টাইগারদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন।
ম্যাচে ওপেনিংয়ে তামিমের সাথে লিটনকে পাঠিয়ে চমক দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। শুরু থেকেই সাবলীলভাবে ব্যাট চালাতে থাকেন লিটন কিন্ত ব্যক্তিগত ১৬ রান করে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কাটা পরেন তিনি। এরপর দলের হাল ধরেন তামিম ও ইনফর্ম সাকিব আল হাসান। তামিম ব্যাক্তিগত ৩৬ রানে নবীর বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেও বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন সাকিব। তামিমের বিদায়ের পর মুশফিককে সাথে নিয়ে ৬১ রানের জুটি গড়েন। মুজিবের বলে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৫১ করেন তিনি।
এরপরের গল্পটা শুধুই গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিমের তার ব্যাটেই ভর করে বড় স্কোরের স্বপ্ন আরো বড় হতে থাকে টাইগারদের। মাঝে মিডল অর্ডারে সু্যোগ পাওয়া সৌম্য তিন রান করে বিদায় নিলেও রিয়াদ যোগ্য সঙ্গ দেন মুশফিককে। এ দুজন জুটিতে যোগান দেন ৫৬ রান। ব্যক্তিগত ২৭ করে রিয়াদ ফিরে গেলেও ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা মোসাদ্দেক। আফগান বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন মুশফিক ও মোসাদ্দেক। টাইগারদের টপ স্কোরার মুশফিক ফেরেন ৮৩ রানে আর ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১৪৫ স্ট্রাইকরেটে ৩৫ রানের ক্যামিও খেলে দলীয় স্কোর ২৬২ রানে নিয়ে যান মোসাদ্দেক। আফগানদের হয়ে তিন উইকেট নেন মুজিবুর রহমান।
সাউদাম্পটনের টার্নিং উইকেটে যা মোটামুটি বড় সংগ্রহই বলা চলে। জবাব দিতে নেমে ভালো শুরু পায় আফগানরা কিন্ত সাকিবময় ম্যাচে এ শুরু কোন কাজেই আসেনি। আফগান ব্যাটিং লাইন আপ অর্থাৎ টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার একাই গুড়িয়ে দেন সাকিব আল হাসান। একে একে সাজঘরে ফেরান পাঁচ আফগান ব্যাটসম্যানকে। ব্যাক্তিগত ১০ ওভারের কোটায় এক মেইডেনসহ ২৯ রান খরচায় এ স্পেল করেন সাকিব আল হাসান। এছাড়া ও মোস্তাফিজ দুইটি এবং সাইফুদ্দিন ও মিরাজ একটি করে উইকেট নেন।
এ ম্যাচে দারুন কিছু রেকর্ড গড়েন সাকিব আল হাসান। ওয়াল্ডকাপের প্রথম প্লেয়ার হিসেবে ব্যক্তিগত ১০০০ রান ও ৩০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন সাকিব। এছাড়া ও বিশ্বকাপে মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে যুবরাজের পর একই ইনিংসে পাঁচ উইকেট ও ফিফটি হাকানোর রেকর্ড করেন। সাকিব মুশি জুটিও এদিন ৩০০০ রান যোগানের কোটা অতিক্রম করেন।
এ ম্যাচে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জয় পাওয়া তিন ম্যাচেই সেরা হলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এ ম্যাচ জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে আসলো টাইগাররা। বাংলাদেশের বাকী আর দুই ম্যাচ যার সবকয়টিই এখন টাইগারদের জন্য মাস্ট উইনিং।