ব্রিটিশ মুলুকে বজায় রইল ক্যারিবীয় প্রতাপ
আর কয়েকদিন বাদেই ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের
ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। বিশ্বকাপের প্রতিটি আসর নিয়ে
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’র পাঠকদের জন্য থাকছে ধারাবাহিক
আয়োজন। আজ পড়ুন- দ্বিতীয় পর্ব।
আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আয়োজিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপ মাঠে গড়ায় ১৯৭৯ সালে। অনান্য দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করার মত পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় এবারো স্বাগতিক হয় ইংল্যান্ড। এটি ছিল ইংলিশদের টানা দ্বিতীয় আয়োজন।
বিশ্বকাপের এবারের আয়োজনেও মোট আটটি দেশ অংশ নেয়। তবে অবাক করার মত বিষয় ছিল আফ্রিকা মহাদেশ থেকে কারো অংশ না নেওয়ার বিষয়টা। আইসিসির সে সময়ের পূর্ণ সদস্য স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্টইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও সহযোগী দেশ হিসেবে শ্রীলংকা এবং প্রথমবারের মত কানাডা অংশগ্রহণ করে। এ বিশ্বকাপের খেলাগুলো আগের বারের মত ইংল্যান্ডের পাঁচটি শহরের ছয়টি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলে ৯-২৩ জুন পর্যন্ত এবং যথারীতি উদ্বোধনী ও ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় লর্ডসে।
পূর্বেকার বিশ্বকাপের ন্যায় এ প্রতিযোগিতার ধরন ও নিয়মাবলী অপরিবর্তিত রাখা হয়। প্রতিটি দল ৬০ ওভারব্যাপী ইনিংসে অংশ নেয়। সনাতনী ধাঁচের সাদা পোষাক এবং লাল বল ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি ম্যাচই দিনের বেলায় এবং খুব সকালে অনুষ্ঠিত হয়। দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে চারটি দল একে-অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। প্রতি গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় দু’টি দল সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যাবে। সেমি-ফাইনালের বিজয়ী দলগুলো ফাইনালে লড়বে।
গ্রুপ এ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইংল্যান্ড ও রানার্সআপ পাকিস্তান এবং গ্রুপ বি থেকে চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্টইন্ডিজ ও রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড সেমি নিশ্চিত করে। প্রথম সেমিফাইনালে ক্যারিবীয়রা এশিয়ার দল পাকিস্তানকে ৪৩ রানে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংলিশরা কিউইদের ৯ রানে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফাইনালে ও গতবারের ন্যায় আবারো ওয়েস্ট ইন্ডিজ উঠে এবার তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড। টসে জয়ী হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের জন্যে আমন্ত্রণ জানায় ইংলিশরা। কিংয়ের ৮৬ রান এবং ভিভরিচার্ডসের অপরাজিত ১৩৮ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৬০ ওভার শেষে ক্যারিবীয়রা স্কোরবোর্ডে তোলে ২৮৬ রান।
পরবর্তীতে রিচার্ডসের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের শুরুটা ধীরলয়ে ঘটে। কিন্তু দুই উইকেটে ১৮৩ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে ১৯৪ রানে অল-আউট হয়ে যায় তারা। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন হয়। ক্যারিবীয় অধিনায়ক লয়েড দ্বিতীয়বারের মত ব্রিটিশ মুলুকে উচিয়ে ধরেন ট্রফি। অলরাউন্ডিং পারফর্মেন্সের জন্য ভিভ রিচার্ডস ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
এ বিশ্বকাপে ও ছিল না কোন ম্যান অফ দ্যা সিরিজের পুরস্কার। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান গর্ডন গ্রীনিজ (২৫৩) এবং সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন ইংলিশ ফাস্ট বোলার মাইক হেনড্রিক (১০)।