১০ এপ্রিল ২০১৯, ১১:২৩

তায়কোয়ানডো কী, কেন শিখবেন

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তায়কোয়ানডোর প্রশিক্ষণ  © ফাইল ফটো

তায়কোয়ানডো একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ক্রীড়া-যা মূল একটি ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান মার্শাল আর্ট বা রণকৌশল। গত ২০ শতাব্দী ধরে কোরিয়ায় লালিত ও চর্চিত হয়ে বর্তমানে তায়কোয়ানডো একটি বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক ক্রীড়ায় রুপ নিয়েছে। কোরিয়ায় জন্ম নিয়ে পরবর্তীতে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া তায়কোয়ানডো আন্তর্জাতিক অলিম্পিকেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। এই খেলায় খালি হাত ও পায়ের সাহায্যে শত্রুকে কাবু করা যায়। 

বাংলাদেশেও তায়কোয়ানডোর প্রসার কম নয়। এটি চর্চার মাধ্যমে একজন মানুষ হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসী, আত্মরক্ষায় পারদর্শী, সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যবান। তাই দেশের ৪৫টি স্কুল, কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির ২ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে এটির প্রশিক্ষণ কারযক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের উদ্যোগে অভিজ্ঞ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান (কোরিয়ান) প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে  প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। 

তায়কোয়ানডো কেনো শিখবেন

তায়কোয়ানডো কেবল আত্মরক্ষার উন্নত শক্তিকৌশল নয় বরং এর চর্চার মাধ্যমে একজন প্রশিক্ষণার্থী নানাভাবে উপকৃত হতে পারে। এটি এমন একটি উন্নত কৌশল যার মাধ্যমে দেহের গতিকে শক্তিতে রুপান্তরের মাধ্যমে কারযকর করা হয় এবং সমগ্র দেহ কাজ করে একটি অস্ত্রের মতো। তায়কোয়ানডো মানসিক গুনাবলী বিকাশে সহায়তা করে। এটির চর্চা শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মঠ করে দেহের পেশীকে শক্তিশালী ও মজবুত করে গড়ে তোলে এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। 

 তায়কোয়ানডো’র মূল লক্ষ্য 

* শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী, নারীদের স্বাবলম্বী ও আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া।

* ইভটিজিং, আত্মহত্যা, নারী নিরযাতন, ছিনতাই, রাস্তা-ঘাটে অনকাংখিত সন্ত্রাসী কর্কান্ড প্রতিরোধ করে প্রত্যেক নারী যেনো একাকী পথ চলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।

* চাকরি নিশ্চিতকরণ (সংস্থা কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন বাহিনীতে প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড় কোটায়)।

* আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরী করে বিদেশের মাটি থেকে দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসা। 

* তায়কোনাডো শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত সনদের মাধ্যমে ক্যান্টমেন্ট পাবলিক/বোর্ড স্কুল/কলেজ/ক্যাডেট কলেজ/ও বিশ্ববিদ্যালয়সমুহে ভর্তির অগ্রাধিকার এবং সামরিক বাহিনীতে যেকোনো পদমরযাদার চাকরির ক্ষেত্রে সুবিধাপ্রাপ্তির সমুহ সম্ভাবনা সষ্টি করা। 

তায়কোয়ানডো কারা শিখতে পারে

৬ থেকে ৮০ বছর বয়সী যেকোনো নারী বা পুরুষের পক্ষে তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষণ গ্রহণ সম্ভব।

কোথায় প্রশিক্ষণ নেবেন, খরচ কত

রাজধানীর পুরানা পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে এর প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। যেখানে জাতীয় দলের হেড কোচ মাস্টার লি জু সাং (দক্ষিণ কোরিয়া), বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ অলিম্পেক এসোসিয়েশনের কারযনির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হাসান রানার এবং অন্যান্যরা প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এছাড়া দেশের ভেতর তায়কোয়ানডো ফেডারেশন অনুমোদিত প্রশিক্ষকগনই এর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তবে এর প্রশিক্ষণ ব্যয় খুব বেশি নয়। মত্র ২৬০০ টাকা দিয়ে তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি হতে পারবেন, সঙ্গে থাকছে পোশাক। এছাড়া মাসিক একটা প্রশিক্ষণ ফিস আছে। 

তায়কোয়ানডোর সাথে অন্যান্য মার্শাল আর্টের পার্থক্য

তায়কোয়ানডো একটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও সুশৃঙ্খল খেলা, যেখানে শরীরের নাজুক ও সংবেদনশীল স্থানগুলো রক্ষার জন্য বিভিন্ন রকম সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। হেড গার্ড, চেস্ট হার্ড, হ্যান্ড হার্ড, হ্যান্ড গ্লাব্স, শিন গার্ড, গ্রোয়েন গার্ড ইত্যাদি সেন্সিবল (sensible) গার্ড ব্যবহার করা হয়। তাই এই খেলায় ঝুঁকি নেই বললেই চলে। 

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্জন 

কোরিয়ান মার্শাল আর্ট তায়কোয়ানডো অলিম্পিকের একটি খেলা। অলিম্পিক গেমসে এক্ষেত্রে এখনও সাফল্য না আসলেও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তায়কোয়ানডোতে বাংলাদেশের সাফল্য অন্যন্য। অর্জিত সাফল্যের মধ্যে ২০০৬ সালে কলম্বোয় ১০ম সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের মো: মিজানুর রহমানের স্বর্ণ পদক জয়, ঢাকায় ২০১০ সালে ১১তম সাউথ এশিয়ান গেমসে শাম্মী আক্তারের স্বর্ণ পদক জয়, একই বছর ঢাকায় ১১তম সাউথ এশিয়ান গেমসে ফারজানা শারমীন রুমির স্বর্ণ পদক জয়, ২০১১ সালে ভারতের চেন্নানইয়ে ৫ম কমনওয়েলথ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় শাবণী বিশ্বাসের স্বর্ণ পদক জয় করেন। একই প্রতিযোগিতায় রৌপ্য পদক জয় করেন বাংলাদেশের শাহনাজ খাতুন। এছাড়াও তায়কোয়ানডোতে বাংলাদেশের সাফল্যের পালকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১২ সালে ৭ম কোরিয়া ওপেন ইন্টারন্যাশনালে মো: মুসলেম মিয়ার স্বর্ণ পদক ও মো: ইমতিয়াজ ইবনে আলীর রৌপ্য পদক জয় অনন্য হয়ে আছে। 

তায়কোয়ানডোতে বাংলাদেশ দিনে দিনে উন্নতি করছে। আগামীতে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ছেলেমেয়োর আরও ভালো করবে বলে প্রত্যাশা বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ অলিম্পেক এসোসিয়েশনের কারযনির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হাসান রানার। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস ডট কম এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সুস্থ, সবল ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনেও তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটির প্রশিক্ষণ একজন মানুষকে আত্মরক্ষার পাশাপাশি আত্ববিশ্বাস বাড়িয়ে যেকোনো কাজ আরও স্মার্টলি করতে, সফল হতে সহায়তা করে।