এগিয়ে যেতে চান ঢাবির ‘স্পোর্টসম্যান’ জাহিদ
‘আমাদের মধ্যে প্রতিভা আছে। প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দরকার।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান চান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও যত্ন নেওয়া হোক। চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে টানা তিনবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। জাহিদের বন্ধুরা তাঁকে ডাকে ‘স্পোর্টসম্যান।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গত ১৭ জানুয়ারি এসএম হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটিকসে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন জাহিদ। ১০০ ও ২০০ মিটার দৌঁড়ে প্রথম ও হাই জাম্পে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। পুরস্কার হিসেবে মিলেছে তিন হাজার ৭০০ টাকার প্রাইজবন্ড। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের পর এবারও চ্যাম্পিয়ন হলেন জাহিদ।
জাহিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলেরও সদস্য। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল। ওই দলের একজন ছিলেন জাহিদ হাসান। তিনি নৃত্যকলা বিভাগের ছাত্র। ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনটাও দারুণ খেলেন জাহিদ।
জাহিদের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জে। ছোটবেলা থেকেই ভালোবেসেছেন খেলাধুলাকে। আর ভবিষ্যতে এই খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। তাঁর এক ভাই ও এক বোন আছে।
জাহিদ জানান, তাঁর পরিবারের সবাই খেলাধুলার সমাদর করত এবং তাঁর বাবা-চাচারা এলাকাতে নামকরা ফুটবলার ও ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। খেলাধুলার সংস্কৃতিতে বড় হন বলে জানান তিনি।
জাহিদের বাবার নাম মো. শাহ আলম সব সময় খেলাধুলার জন্য উৎসাহ দেন। জাহিদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি সত্যিই খুবই ভাগ্যবান এমন বাবা পেয়ে, যিনি সব সময় আমাকে খেলাধুলার জন্য মাঠে নিয়ে যেতেন এবং প্রেরণা দিতেন।’
২০১১ ও ২০১২ সালে জাহিদের নেতৃত্বে ‘ইন্টার স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে’ নবাবগঞ্জের শোল্লা হাইস্কুল ও কলেজ দুবার ঢাকা জেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়।
এসএসসির পর ঢাকা কলেজে ভর্তি হন জাহিদ। সেখানেও অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন তিনি। কলেজে ক্রিকেটও খেলতেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও ক্রিকেটটা চালিয়ে যেতে চান জাহিদ। দেশের বিখ্যাত ক্লাব আবাহনীতে নিয়মিত অনুশীলনও করছেন তিনি।
জাহিদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ক্রিকেটকে নিয়ে, স্বপ্ন দেখেন ক্রিকেটার হবেন। তবে এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে খেলার প্লাটফর্ম নেই, নিজেদের প্রচেষ্টায় খেলা শুরু করতে হয় এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে খেলাধুলাকে চালিয়ে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পৃষ্ঠপোষকতা করলে খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে ভালো করবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা খেলাধুলা করেন তাঁদের প্রশংসাই করলেন জাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে প্রতিভা আছে। তবে প্রতিভা বিকাশের যথাযথ সুযোগ তৈরি করা দরকার।’
জাহিদ বলেন, ‘খেলাধুলার জন্য ফিট থাকা জরুরি। ফিট থাকলে সবাই যার যার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। আর এজন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, ডায়েট করা, শরীর চর্চা প্রয়োজন।’