০৬ মে ২০১৯, ২০:১৫

বাল্যবিবাহ বন্ধে অপ্রতিরোধ্য দশম শ্রেণীর ছাত্রী শিপ্রা

শিপ্রা

নিজের বিয়ে নিজেই বন্ধ করলেন আমতলীর গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ওই ছাত্রীর নাম শিপ্রা। গোপনে তার মতের বিপরীতে বিয়ের প্রস্তুতির কথা জেনে সে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে দেয়। পরে প্রশাসন এসে তার বিবাহ বন্ধ করে।

সোমবার সকালে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শিপ্রা উপজেলার ওই গ্রামের পুনিল চন্দ্র মিস্ত্রির কন্যা। সে গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিপ্রাকে না জানিয়ে গোপনে তার বাবা পুনিল চন্দ্র মিস্ত্রি মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। সোমবার বর পক্ষের লোকজন শিপ্রার বাড়িতে আসার দিনক্ষণ ঠিক হয়। শিপ্রা বাবার পছন্দের বিয়েতে রাজি হয়নি।

এ ঘটনায় গোপনে শিপ্রা নিজের বিয়ে বন্ধ করার জন্য আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সরোয়ার হোসেনকে জানায়। খবর পেয়ে আমতলী ভ্রমমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে দেয়ার প্রস্তুতির সত্যতা পায়।

মেয়ের অমতে বাল্যবিয়ের প্রস্তুতির অপরাধে বাবা পুনিল চন্দ্র মিস্ত্রিকে তিন হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে সাহসী শিপ্রাকে গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের হেফাজতে রেখে আসেন।

শিপ্রা তার সাহসিকতার বর্ণনায় বলেন, আমার এখন লেখাপড়া বয়স। এই বয়সে আমি আমার মূল্যবান জীবনটাতে অপাত্রে দান করতে পারবো না। বাবা আমার অমতে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। আমি জানতে পেরে বাবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে বন্ধের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা গিয়ে আমার বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে আমি এখন স্বস্তি অনুভব করছি।

বাবা পুনিল চন্দ্র মিস্ত্রি নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে উপযুক্ত পাত্রের কাছে বিয়ে দেব।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থী শিপ্রার সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, যতদিন পর্যন্ত বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হবে ততদিন পর্যন্ত আমার হেফাজতে রেখে ওর লেখাপড়া চালিয়ে নেব।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, শিপ্রা নিজের বিয়ে বন্ধের জন্য আমার কাছে খবর দেয়। খবর পেয়ে ভ্রমমাণ আদালত পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান তার দেখা শোনার দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি।